পদোন্নতিবঞ্চিত ইসি কর্মীদের ক্ষোভ

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পদোন্নতি পাচ্ছেন না দীর্ঘদিন ধরে। এ নিয়ে তাঁরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে সদর অফিসের অনেক কর্মকর্তা ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে একই পদে কাজ করছেন। অনেকে পুরো চাকরিজীবনে পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে গেছেন। কেউ বা অবসরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু পদ শূন্য থাকলেও পদোন্নতি হচ্ছে না।
আগের কমিশন ২০১১ সালের অক্টোবরে সচিবালয়ের বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি দেয়। তবে বর্তমান কমিশন বিভিন্ন আইন ও নীতিতে কিছু ভুলের অজুহাত তুলে আগের পদোন্নতিকে অবৈধ বলছে।
সম্প্রতি ইলেকশন কমিশন সার্ভিসেস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মস্থলে কালো ব্যাজ ধারণ, কর্মবিরতিসহ অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। কমিশন মনে করে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের আন্দোলন নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজকে ব্যাহত করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী বলেন, পদোন্নতির বিষয়ে সুপিরিয়র সিলেকশন কমিটির সভা হওয়ার কথা। তবে নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ফল না পেলে আন্দোলনে যেতে হবে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করা হয়। এতে ১৯৭৯ সালের দি ইলেকশন কমিশন (অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ) রুলস রহিত হয়ে যায়। কিন্তু ২০০৯ সালের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়োগ-পদোন্নতি পাবেন। বিধি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ১৯৭৯ সালের বিধি অনুযায়ী নিয়োগ-পদোন্নতি দেওয়া হবে।
সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ভুলবশত ২০০৯ সালের আইনে ১৯৭৯ সালের বিধি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এই ভুলের দায়ভার সরকারের, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নয়।
কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায় মিলিয়ে কমিশনের মোট জনবল আনুমানিক দুই হাজার ৭৫০ জন। তাঁদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা ১৫৪। সিনিয়র সহকারী থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তা ৬৫ জন।
পদোন্নতি না হওয়ায় দীর্ঘদিন কমিশন সচিবালয়ের ওপরের দিকের নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে কমিশন সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা নেই। প্রেষণে আসা বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা সেই সব পদে আছেন। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন থেকে যুগ্ম সচিবের একটি পদ এবং একই পদমর্যাদার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের পদটি খালি পড়ে আছে। বর্তমানে পঞ্চম গ্রেডের ১৯টি সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ শূন্য। লাইব্রেরির দায়িত্বে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও তা চালাচ্ছেন একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের আপত্তির অজুহাত তুলে সেখানে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর পদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।
২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া তিন শর মতো উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/সহকারী সচিবের পদায়ন-প্রক্রিয়াও চলছে। তাঁদের মধ্যে পদোন্নতি পাবেন মাত্র ৩২ জন।
১৯৮৬ সালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাকরিজীবনে একবারও পদোন্নতি পাব না, এইটা কোনো চাকরি হলো।’ জানতে চাইলে সুপিরিয়র সিলেকশন কমিটির সভাপতি, নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, কমিশন সচিবালয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা চলছে। ফলে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। এ-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে।