রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা

পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা

রাজনৈতিক অস্থিরতায় অষ্টম শ্রেণীর আসন্ন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি), বার্ষিক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী, তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অস্থিরতার মুখে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা যাবে কি না, তা-ই এখন সবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পরীক্ষাই নয়, পরীক্ষার আগ মুহূর্তে ক্লাস ও প্রস্তুতি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, যেভাবে দেশ এগোচ্ছে তাতে মনে হয় আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকবে। অথচ এই সময়ে দেশের বার্ষিক পরীক্ষাসহ বেশ কিছু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা, শেষ হবে ২০ নভেম্বর। এতে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই ২১ নভেম্বর অষ্টম শ্রেণী ছাড়া অন্যান্য শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু ঠিক সময়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কি না, তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য আমরা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তারা যেন পরীক্ষার ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি না দেয়।’
নভেম্বরে শুধু জেএসসি-জেডিসি নয়, ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। এই পরীক্ষায় প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা। এই পরীক্ষার পরপর ৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব দলের প্রতি আহ্বান রাখব, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার সময়ে কোনো কর্মসূচি তারা যেন না দেয়। এ বিষয়ে আমরা সব দলের নেতাদের সহযোগিতা কামনা করছি।’
অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও শুরু হচ্ছে সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ নভেম্বর ‘ঘ’ ইউনিটের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। পাঁচটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে ২৩ নভেম্বর। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও হবে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভর্তি পরীক্ষার্থীরাও চিন্তিত।
বিরোধী দল আভাস দিয়েছে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায়’ যা যা করার তা-ই করা হবে। ইতিমধ্যে সরকার রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা শুধু উদ্বিগ্নই নন, আদৌ পরীক্ষা হবে কি না, সেটাই এখন তাঁদের চিন্তার কারণ হয়ে গেছে।
এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিক্ষাব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল। তখন চরম সংকটের মুখে পড়ে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী। তখন সবচেয়ে বিপদের মুখে পড়ে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী। হরতালের কারণে আট দিনের পরীক্ষা পেছানো হয় তখন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হরতালের কারণে ছয় দিনের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা পেছানো হয়।
পরীক্ষার সময়সূচি
১ নভেম্বর
স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
৪ নভেম্বর
জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু
২০ নভেম্বর
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু
২১ নভেম্বর
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু
নভেম্বর-ডিসেম্বর
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা
৭-১৮ ডিসেম্বর
প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা