পর্যালোচনা করছে বিএনপি আজ সিদ্ধান্ত

মিথ্যাচার দাবি করে জামায়াতের প্রত্যাখ্যান

‘সর্বদলীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবের ব্যাপারে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর শনিবার এ বিষয়ে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব।’ এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে পুরনো অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও তিনি সরে এসেছেন।’ তবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে মিথ্যাচার দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা (খালেদা জিয়া) সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এ প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর আমাদের অবস্থান গণমাধ্যমকে জানাতে পারব।’
এদিকে আজ শনিবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে। এর পরই দলের প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলে দলের একাধিক নেতা জানান। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর গতকাল রাতেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ করেন বলে সূত্র জানায়।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় বিরোধী দলের অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংলাপের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল অনেক নেতার সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দল থেকে প্রতিক্রিয়া জানাবে। আমি কিছু বলতে চাই না’। দলের অন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যত দূর শুনেছি, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনার পর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’ দলের দপ্তরের দায়িত্বে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এ নিয়ে আমার কথা বলার এখতিয়ার নেই। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হতে পারে।’
কর্নেল অলি আহমদের প্রতিক্রিয়া : এদিকে ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তিনি পুরনো অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে আসছেন। তবে তা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে যথেষ্ট নয়’। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে সংকট সমাধানের পথ বের করা যেত। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কোনো মতামত কিংবা কোনো কথা বলেননি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন; কিন্তু বিরোধী দলের কতজন সদস্য থাকবেন, সে ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ করেননি। এমনকি সর্বদলীয় সরকার গঠন হলে প্রধানমন্ত্রী নিজে কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন কি না, তাও স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়টি স্পষ্ট করা একান্ত প্রয়োজন ছিল। তাই প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ভাষণে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
অলি আহমদ আরো বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে বিরোধী দলের নেতার প্রস্তাবে সরকারের সাড়া দেওয়া উচিত। অন্যথায় এ ভাষণের মধ্য দিয়ে সংকট সমাধান হবে না। সংঘাত-সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে রবিবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এসব বৈঠকে হয়তোবা প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব ও ভাষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত : এদিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে মিথ্যাচার বলে অভিযোগ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ অন্তঃসারশূন্য কথামালার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতের এ নেতা উল্টো সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।