পাঁচ শতাধিক ‘নতুন সন্ত্রাসী’

আতাউর রহমান
রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ভবনে টেন্ডার সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়ে তারা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। চাঁদাবাজি, খুন, মাদক ব্যবসাসহ দীর্ঘদিন অপরাধজগৎ দাপিয়ে বেড়ানো রাজনৈতিক দলের এসব সদস্য এবার নতুন সন্ত্রাসী হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত হচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে এ ধরনের পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে ‘নতুন সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তাদের বেশির ভাগই সরকারি দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনের পদধারী নেতা, যাদের কারও নাম এর আগে সন্ত্রাসী হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় ছিল না।
গোয়েন্দা সংস্থার সংগ্রহ করা ওই তালিকায় বিভিন্ন ভবনে গত সাড়ে চার বছরে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকারীদের নামের তালিকা ছাড়াও একাধিক হত্যা মামলার আসামি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের নামও উঠে এসেছে। এ তালিকা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। তালিকা তৈরি শেষ হলেই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হবে। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, রাজধানীর ৪৯টি থানা ধরে সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ভবন, মৎস্য ভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবন, পরিবার পরিকল্পনা ভবন, ওয়াসা ভবন, নগর ভবন এবং এলজিইডি ভবনসহ কোটি কোটি টাকার টেন্ডার হয় এমন ভবনকেন্দ্রিক সন্ত্রাসীরাও ওই তালিকায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবলীগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাদের নাম উঠে আসছে নতুন সন্ত্রাসী হিসেবে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে কয়েকটি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন_ থানা পর্যায়ে এমন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নামও বেরিয়ে এসেছে। তবে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এলাকাভিত্তিক কয়েকজন ক্যাডারের নাম উঠে এসেছে, যারা বর্তমান সরকারের আমলেও বেপরোয়া ছিল।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। এ ছাড়া রাজনৈতিক মদদে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলেও অনেকে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরাধ করার পরও রাজনৈতিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের আগেই এসব সন্ত্রাসীকে
নিয়ন্ত্রণ করতে তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। ওই সূত্রটি
জানায়, নতুন সন্ত্রাসী তালিকায় নাম উঠে আসা ঢাকা মহানগর যুবলীগের (উত্তর-দক্ষিণ) সহসভাপতি,
যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরের বেশ কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ‘খ’, ‘ম’, ‘র’ আদ্যাক্ষরের তিন নেতা, মতিঝিল এলাকার চিহ্নিত একজন ছাত্রলীগ নেতা ও একই এলাকার ‘শ’ আদ্যাক্ষরের যুবলীগের একজন নেতা রয়েছেন। খিলগাঁও ও শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা, খিলগাঁও ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা ও রামপুরা থানা ছাত্রলীগের একজন নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা ও সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নামও রয়েছে তালিকায়। গুলশান এলাকায় মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পর যুবলীগের (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চলসহ তার বেশ কয়েক শিষ্যের নামও রয়েছে নতুন সন্ত্রাসী তালিকায়। দীর্ঘদিন শিক্ষা ভবন দাপিয়ে বেড়ানো শফিক, ক্রীড়া ভবনের চঞ্চল, মৎস্য ভবনের বকুল ও বিদ্যুৎ ভবনের মিজানসহ তাদের অনুসারীদের নামও উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, খিলগাঁও মডেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজ, গুলশানে তিতুমীর কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের কয়েক নেতার নামও রয়েছে ওই তালিকায়।