পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেই

পাহাড়ে মেয়রের বাংলো

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের জন্য নগরের টাইগারপাস এলাকায় পাহাড়ের ওপর বাংলো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই করপোরেশন বাংলোর নির্মাণকাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলো নির্মাণে পাঁচ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ভবনটি হবে আড়াই তলা। এর নকশা করেছেন করপোরেশনের স্থপতিরা। আগামী বছরের মধ্যে বাংলোর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। কাজ পেয়েছে মেসার্স এয়াকুব অ্যান্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১০ ধারার ৬(খ) অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে, অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যেতে পারে।’ চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মোহাম্মদ মন্জুর আলম গত রোববার প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘ওই পাহাড়চূড়ায় একসময় পুলিশ সুপারের বাংলো ছিল। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, ডিআইজিসহ অনেকের বাংলো পাহাড়ের ওপরে। এসব ভবন নির্মাণের জন্য কারও কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়নি। আর আমরা তো পাহাড় কাটছি না। সেখানে নতুন করে বাংলো নির্মাণ করছি মাত্র।’ মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিলামের মাধ্যমে রেলওয়ের মালিকানাধীন এই পাহাড় কিনেছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, খননযন্ত্র দিয়ে পাহাড়ে খননকাজ চলছে। প্রায় তিন ফুট মাটি খনন করা হয়েছে। গতকাল রোববার আবার গিয়ে দেখা গেছে, খননযন্ত্র নষ্ট থাকায় পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। প্রায় ১০ জন শ্রমিক মাটি খননের কাজ করছেন। ভবন নির্মাণের জন্য তিনটি গাছ কাটা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ রড এনে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জাফর আলম বলেন, ‘পাহাড়ের ওপর বাংলো নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু সিটি করপোরেশন আমাদের থেকে এ ধরনের কোনো অনুমতি নেয়নি।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন তাদের ওষুধ কারখানা, গার্বেজ প্ল্যান্ট ট্রিটমেন্টসহ অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে করপোরেশন কেন আবেদন করেনি, বুঝতে পারছি না। বিষয়টি আমরা দেখব।’ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করপোরেশন বাংলো নির্মাণের জন্য ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন নিয়েছে। বাংলো নির্মাণের জায়গা পাহাড়ের ওপরে হওয়ায় করপোরেশনকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে।’

করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, টাইগারপাস এলাকায় পাহাড়ে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গায় মেয়রের বাংলো নির্মিত হবে। বর্তমানে সেখানে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হয়। করপোরেশনের ২৪ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম মেয়রের জন্য বাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।