পিলখানা হত্যাকাণ্ড: রায় ঘোষণা হবে ৩০ অক্টোবর

তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ৩০ অক্টোবর। এই মামলায় গতকাল রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সব আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, আদালত এসব বিষয় বিবেচনায় নিবেন।
রাজধানীর বকশীবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে পিলখানা হত্যা মামলার বিচার চলছে। গতকাল সকাল ১০টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে আসন গ্রহণের পর অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে পরদিন থেকে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের হাতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদও রয়েছেন। এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টুসহ ২৩ জন বেসামরিক ব্যক্তিও রয়েছেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট এক হাজার ৩৩৩ জনকে সাক্ষী করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এসব সাক্ষী ৭৮৩ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল এ মামলা ২৩১ কার্যদিবস অতিক্রম করেছে।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা মামলাগুলোর বিচার হয়েছে বিডিআরের নিজস্ব আইনে। গত বছরের ২০ অক্টোবর বিদ্রোহের ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এসব মামলায় পাঁচ হাজার ৯২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়, খালাস পান ১১৫ জন।