ফেলানী হত্যাকাণ্ড

পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিল বিএসএফ

বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। সীমান্ত সম্মেলন উপলক্ষে বিএসএফ মহাপরিচালক সুভাষ যোশীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ শনিবার ঢাকায় আসছে। সীমান্ত সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য ইস্যু সীমান্তে হত্যা।
বিবিসি জানায়, বিএসএফ মহা-পরিচালক গতকাল নয়াদিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরই বিএসএফ ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম এবং মামলায় আইনি সেবা দেওয়া কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসি-কিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিঙ্কন। নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি এটিই চেয়েছিলেন। বিএসএফ আদালতে তিনি ফেলানী হত্যার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামির ফাঁসি ছাড়া তিনি কিছুই মানবেন না। তিনি ন্যায়বিচার চান। অন্যদিকে পুনর্বিচারের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হলো যে আগের রায়টি সঠিক ছিল না। পুনর্বিচারের সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত হলো, বলেন ফেলানীর বাবা।
গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, ‘সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারের চৌধুরী হাটে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের আউটপোস্টে বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন। ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় বাংলাদেশি কিশোরী হত্যার অভিযোগে কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে (জিএসএফসি) বিচার হয়েছে।’
ভারতীয় হাইকমিশন আরো জানায়, “গত ৬ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে ‘নির্দোষ’ ঘোষণা করেন। বিএসএফ আইন ও বিধি অনুযায়ী, আইনি বিশেষজ্ঞরা বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছেন। কর্তৃপক্ষ আদালতের রায়ের সঙ্গে একমত হতে পারেনি। কর্তৃপক্ষ ওই মামলার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে ফেলানী নিহত হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তাঁর দেহ সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ার ওপরই ঝুলে ছিল। ওই ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানায়। বিএসএফের তীব্র নিন্দা জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও।
বিবিসি জানায়, কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিএসএফের যে আদালতের বিচারে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর কোর্টমার্শালের মতো।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ফেলানী হত্যার বিচারের রায়ে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণায় বাংলাদেশ হতাশ হয়েছে। ওই হতাশার কথা ‘নোট ভারবাল’-এর মাধ্যমে গত সপ্তাহের শুরুর দিকেই নয়াদিল্লিকে জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ওই আপিল প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কিভাবে যুক্ত হতে পারে তাও ভারতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণার পর বাংলাদেশের জনগণ স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচারের দাবিতে একদল তরুণ ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে মানববন্ধন করেছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনের সড়কটি ফেলানীর নামে নামকরণের দাবিতে সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচারণা চলছে।