পুলিশি হেনস্তার ভয়ে ৮৪ শতাংশ নারী থানায় যেতে চান না

nari

যৌন নির্যাতনের শিকার ৮৪ শতাংশই নারীই থানায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। এর কারণ হিসেবে তাঁরা পুলিশের দ্বারা হেনস্তা হওয়ার কথা বলেছেন। ৯৫ শতাংশ নারীই মনে করেন, পুলিশি সহায়তার জন্য গেলে হেনস্তার শিকার হতে হয়।
বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের অর্থায়নে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) পরিচালিত এক গবেষণায় এ ফলাফল পাওয়া গেছে।
রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে আজ বুধবার ‘নিরাপদ নগরী নির্ভয় নারী’ প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ফলাফল তুলে ধরা হয়। অ্যাকশন এইড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নারীদের যৌন হয়রানি, নির্যাতন বা সহিংসতা থেকে নিরাপদ রাখাই এ প্রচারণার লক্ষ্য।
২০১৪ সালের মে-জুন মাসে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ৮০০ জন নারী ও কিশোরী এবং ৪০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মধ্যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় অর্থায়ন করেছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড।
গবেষণায় দেখা যায়, দেশের ৯৫ শতাংশ নারী মনে করেন, পুলিশি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার হতে হয়। যৌন নির্যাতনের শিকার ৮৪ শতাংশ নারী এ ব্যাপারে কোথাও অভিযোগ করা দরকার বলে মনে করেন না। উত্তরদাতাদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, পুলিশ অভিযোগকারীকেই দোষারোপ করে। ৫৭ শতাংশের মতে মামলা নিতে পুলিশ গড়িমসি করে, ৫৩ শতাংশের মতে অভিযোগ করে কোনো ফল পাওয়া যায় না। আর পুলিশ কর্তৃক পুনরায় হয়রানির আশঙ্কায় ৩০ শতাংশ নারীই কোনো অভিযোগ করেন না।
যেসব কারণে নারীরা নির্যাতনের বিষয়ে কোথাও অভিযোগ করেন তার অন্যতম হলো, লোকনিন্দার ভয়, পরিবারের সুনামের কথা চিন্তা, অভিযোগ করে কোনো কাজ হয় না, অভিযোগ করার জটিল পদ্ধতি ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, বিচার না হওয়ার প্রবণতায় দিন দিন নারীর প্রতি হয়রানি-সহিংসতা বেড়ে যাচ্ছে।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক ফারাহ্‌ কবির বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমরা প্রশ্রয় দিচ্ছি। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব তো আছেই, তার ওপর অপরাধীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনেরও প্রশ্রয় পাচ্ছে। আইনকে প্রভাবিত করার এই প্রচেষ্টা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, ‘আমাদের পুলিশ প্রশাসন চাইলেই অপরাধীদের চিহ্নিত ও ধরতে পারেন। সে জন্য সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তাতে সরকার ও প্রশাসন বাধ্য হবে ব্যবস্থা নিতে।’

অনুষ্ঠানে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক জাকির হোসেন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে চারজনকে নাসরীন হক স্মৃতি পদক দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও পেশায় সৃজনশীলতায় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, সহিংসতা প্রতিরোধে নারী বিভাগে শান্তি মালো, অপ্রথাগত পেশায় নারী বিভাগে রোখসানা খাতুন, সমাজ পরিবর্তনে যুবা নারী বিভাগে দনোমনি তিগ্যা পদক পান। অ্যাকশন এইডের প্রয়াত দেশীয় পরিচালক নাসরীন হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০০৭ সাল থেকে অ্যাকশন এইড এ পদক দিয়ে আসছে।