পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বিষয়ের স্থায়ী সমাধান দাবি

পোশাকশ্রমিকদের বেঁচে থাকার মতো মজুরি ঘোষণা করে বিষয়টির শিগগিরই স্থায়ী সমাধান দাবি করেছে বেসরকারি সংগঠন কর্মজীবী নারী। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এদিকে মজুরি-সংক্রান্ত প্রস্তাব মজুরি বোর্ড পুনর্বিবেচনা না করলে মালিকপক্ষের কারখানা বন্ধের হুমকির সমালোচনা করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) সভাপতি ফয়জুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক আমীর আব্বাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ হুমকির ঘোষণা মালিকপক্ষ-সরকার-মজুরি বোর্ড ও দালাল শ্রমিকপক্ষের মধ্যকার এক সাজানো নাটক।
তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত মঙ্গলবার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে মালিকেরা বলেন, তাঁরা সাড়ে চার হাজার টাকার বেশি মজুরি দিতে পারবেন না। এ দাবি মানা না হলে কারখানা বন্ধের হুমকি দেন তাঁরা।
কর্মজীবী নারীর সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতটি মালিক ও শ্রমিকের যৌথ অবদানের ফসল। তাই মালিককে তাঁর উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য শ্রমিকদের দিকে নজর দিতে হবে। তাঁকে বেঁচে থাকার মতো মজুরি দিতে হবে। ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ ও নিরাপদ জীবনের জন্য এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে বেঁচে থাকার মতো মজুরি একটি মৌলিক দাবি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, নির্বাহী কমিটির সদস্য উম্মে হাসান ঝলমল ও সমন্বয়ক নাসরীন আরা বক্তব্য দেন।
টাফের নেতারা বলেন, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড-ভিয়েতমানের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা সরেজমিনে জনগণের টাকা ব্যয় করে দেখে আসার পর মজুরি বোর্ড যে নিম্নতম মজুরি প্রস্তাব করেছে, তা হাস্যকর। এ প্রস্তাব মালিকদের সম্মতিতে করা হয়েছে।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র: গাজীপুরে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অফিসে হামলা-ভাঙচুর ও শ্রমিকনেতা আকাশ আহমেদ ও আজিজুল ইসলামের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মন্টু ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন। এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কাউন্সিলর ফজলু চৌধুরী ও তাঁর লোকেরা হামলা ও ভাঙচুর চালান। কেন্দ্রীয় নেতা আকাশ, আজিজুল, আর্জিনা আক্তারসহ পাঁচজনকে ধরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।