প্রতিপক্ষকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ছাড় দিয়ে সংসদ নির্বাচনে আনবে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দিন দিন এমন অনড় অবস্থানেই যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। তাঁরা বলছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিরোধী দলকে নির্বাচনে আসতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, সংলাপে বসার এবং সংসদে গিয়ে বিএনপিকে দাবি তুলে ধরার জন্য বারবার সরকারের পক্ষ থেকে যে আহ্বান করা হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দল সব সুযোগ নষ্ট করেছে। তাই অনড় অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের এমন মনোভাব জানা গেছে।
দলের একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ফোরামে স্পষ্টই বলেছেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা নির্বাচনে আসবে। না এলে এর দায় তাদেরই। তবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের নির্বাচনে আসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপিকে ছাড় দেওয়া না দেওয়ার বিষয় নয়। আমরা সাংবিধানিক ধারার মধ্যে থেকে নির্বাচন করতে চাই। সংবিধান রক্ষা করা বিএনপিরও দায়িত্ব। এ মানসিকতা থেকে তারা নির্বাচনে আসবে বলে আওয়ামী লীগ মনে করে।’ বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব হাঁকডাক বহু শুনেছি।’
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে অসাংবিধানিক দাবির কাছে আওয়ামী লীগ আপস করবে না।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, আওয়ামী লীগ সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়। এর অর্থ এই নয় কারো রাগ ভাঙানোর দায়িত্ব আওয়ামী লীগের।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। সুতরাং নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারাই। ওই নেতা আরো বলেন, নির্বাচন হবেই, ঠেকানোর মতো অবস্থা বিএনপির নেই।
জানা যায়, সংবিধানের ভেতর থেকে বিএনপি নির্বাচনে না এলে প্রয়োজনে একতরফা নির্বাচন করতেও প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দলের নেতা মোহাম্মদ নাসিম এমন আভাসও দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করার পক্ষে আওয়ামী লীগের একটি অংশ সক্রিয়। অপর একটি অংশ অবশ্য বিএনপিকে নিয়েই নির্বাচন চায়। তবে বিএনপিকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনে আনার ব্যাপারে দুই পক্ষই অনমনীয়। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, এ পর্যায়ে বিএনপিকে ছাড় দিতে গেলে সারা দেশে দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। দলীয় নেতা-কর্মীরা এত দিন একটি অবস্থানে থেকে নির্বাচনের কথা ভেবেছে। হঠাৎ সে অবস্থান পরিবর্তন করা আত্মঘাতী হতে পারে।
সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনে না এলে এর দায় তাদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। দলের এক নেতা জানান, আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এর পরই বিএনপি আন্দোলনের পথ ছেড়ে নির্বাচনের পথে আসবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের ওই নেতা। দলের আরেক নেতা বলেন, ২৪ অক্টোবর ঘিরে বিএনপি হাঁকডাক দিচ্ছে। এ নিয়ে সবাই খানিকটা আতঙ্কিত। এ সময়টা পার হলে আতঙ্ক কেটে যাবে। সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে। বিএনপি আরো দুর্বল হবে।
সূত্র জানায়, বিএনপির টার্গেট ২৪ অক্টোবর। তাদের এই টার্গেটের জবাব দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাদের মোকাবিলা করা হবে। এরই অংশ হিসেবে সারা দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হবে।