আওয়ামী লীগ

প্রতিরোধের প্রস্তুতি ভেতরে ভেতরে

ঈদের পর বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকিকে মোটেও আমলে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ- বাহ্যিকভাবে এমন জোরালো অবস্থানের কথা প্রচার করলেও কার্যত ভেতরে ভেতরে সম্ভাব্য আন্দোলন প্রতিরোধের প্রস্তুতিই চলছে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে। বিরোধী দলের অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা রুখে দিতে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগ নেতারা। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট ছাড়াও সমমনা দলগুলো বর্তমানে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ উত্তপ্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই ওই সময়ের ঘূর্ণিবায়ু যাতে বড় কোনো আঘাত হানতে না পারে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র থেকে এসব কথা জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের মতে, আগামী দুই মাস রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে আন্দোলনকারীদের যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নেতা-কর্মীদের নামে মামলা, পুলিশ বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া ও নানা ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে মাঠ দখলে রাখা। আওয়ামী লীগ বিশেষ করে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে দলীয় অবস্থান মজবুত করতে চায়। দলের নেতা-কর্মীদের আরো তৎপর করে তুলতে চায়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকেও পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য মতে, বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এ সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে পরে নির্বাচনী ডামাডোলে বিরোধী দল কোনো ফায়দা হাসিল করতে পারবে না। তাই অক্টোবর-নভেম্বর মাসকে ঘিরে প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘যাঁরা প্রশাসনে আছেন, তাঁরা সরকারের নির্দেশ আনুযায়ী কাজ করবেন। সরকারের কর্মকর্তা যাঁরা আছেন, তাঁদের সরকারের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। যাঁরা নির্দেশ মানবে না, তাঁদের কপালে দুঃখ আছে। তাঁদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, বিএনপিসহ তাদের সহযোগীদের ধারণা ২৪ অক্টোবরের পর সরকার ‘রুটিন ওয়ার্ক’ করবে। এ সুযোগে ফায়দা হাসিল করা তাদের জন্য সুবিধা হবে। তাই ওই সময়টাকেই টার্গেট করেছে তারা। ওই নেতা বলেন, তবে ভুলে গেলে চলবে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়াও সরকারের ‘রুটিন ওয়ার্কে’র মধ্যে পড়ে। সুতরাং অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত সফল হবে না।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপিসহ সমমনাদের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত অহরহ চলছে। হেফাজতকে ঢাকায় বসিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা ছিল, পারেনি। আমরা মোকাবিলা করেছি। এবারো দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে অস্থিরতা মোকাবিলার প্রস্তুতি সরকারের আছে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘২৫ অক্টোবর থেকে বিএনপির আন্দোলনের হুমকি মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা রাজপথে থেকে তাদের সব অপচেষ্টা রুখে দেব।’
সূত্র জানায়, ঈদের পরে বিএনপিসহ তাদের সমমনা রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কর্মসূচির নামে সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে অস্থিতিশীল কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিরোধী পক্ষের যেকোনো সভা-সমাবেশ নিয়ে বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হবে। সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বিরোধী দলের কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বেশ কয়েকজন নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ২৪ অক্টোবরের পরে বিএনপি-জামায়াত জোট কিছু করার চেষ্টা করবে এ তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরাও মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দলীয় নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সারা দেশে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ, কোন্দল দূর করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সে লক্ষে সাংগঠনিক সফর, দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মতবিনিময় সভা অব্যাহত রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘রাজপথে লড়াই করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো শক্তিই পারবে না। যেকোনো আন্দোলন মোকাবিলার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। দ্রুত সংগঠনের অভ্যন্তরে অনৈক্য দূর করতে আমাদের ওপর নির্দেশনা রয়েছে।’