প্রথম স্ত্রীই তাবলীগ নেতার হত্যাকারী?

tab
সিলেট শহরে তাবলিগ জামায়াতের স্থানীয় আমির ইব্রাহিম আবু খলিল তার প্রথম স্ত্রী মোছাম্মৎ ফাতেহা মাশরুকার হাতে খুন হয়েছেন বলে  জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট কোতয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ মঙ্গলবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  “একাধিক বিয়ে করা, তাবলিগের কারণে পরিবারে সময় না দেওয়া, সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই ফাতেহা স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।”

ফাতেহার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি থেকে রেলের একটি লোহার পাত ও একটি ছোরাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার ফাতেহাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

সোমবার সকালে সিলেট শহরের চারাদিঘীর পাড়ে নিজের বাড়িতে ৫৫ বছর বয়সী ইব্রাহিম আবু খলিলের লাশ পাওয়া যায়।

শোবার ঘরের খাটের নিচে লাশটি ছিল হাত-বাঁধা ও গলা কাটা অবস্থায়। নিহতের মুখের উপর একটি বালিশও চাপা দেওয়া ছিল।

তার ছেলে সাজিদ উদ্দিন জানান, ইব্রাহিম ছিলেন সিলেট তাবলিগ জামায়াতের একজন স্থানীয় আমির। ভারতে চিল্লা শেষে তিন দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

নিহতের ঘর থেকে ল্যাপটপ ও স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে বলেও লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশকে জানায় ওই পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনার তদন্তের মধ্যেই সোমবার বিকালে তার প্রথম স্ত্রী ফাতেহা মাশরুকা (৪০) ও ছোট ছেলে সাজিদকে (১৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেহা পুলিশকে জানান, তার স্বামী ইব্রাহিম তিনটি বিয়ে করেছেন। তিনি তার প্রথম স্ত্রী।

দ্বিতীয় স্ত্রী মৌলভীবাজারের বড়লেখার সুজানগর এলাকায় থাকেন। ইব্রাহিম তৃতীয় বিয়ে করেছেন দিনাজপুর জেলায়।

কতোয়ালির ওসি বলেন, তাবলীগ জামায়াতে বেশি সময় কাটানো, একাধিক বিয়েসহ নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এ অবস্থায় ফাতেহা সম্পত্তির ভাগ ভাটোয়ারা করে সন্তানদের ‘ভবিষ্যত ঝামেলামুক্ত’ করতে বললে ইব্রাহিম তা এড়িয়ে যান।

“ঘটনার রাতে তারা যার যার ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ফাতেহা বলেছেন, রাত প্রায় ৩টার দিকে রেলওয়ের পাত নিয়ে তিনি স্বামীর ঘরে যান এবং ঘুমন্ত ইব্রাহিমের মাথায় আঘাত করেন। ইব্রাহীম ধস্তাধস্তির চেষ্টা করলে তার পেটের ডান দিকে তিনটি আঘাত করেন ফাতেহা। পরে স্বামীর দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং ছোরা দিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।”

স্বামীকে ‘জবাই করে’ ফাতেহা ওই বাসাতেই ছিলেন। তিনি একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে দাবী করেছেন।