বিশেষ সাক্ষাৎকার

প্রধানমন্ত্রীই পারেন সংঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে…এম মোরশেদ খান

২৪ অক্টোবরের পর দেশে কী হবে এ নিয়ে দেশবাসী অজানা শঙ্কায় রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে দেশ একটি কঠিন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশ ভয়াবহ সংঘাতের দিকে যাবে। তবে এ অবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীই পারেন দেশকে রক্ষা করতে। কারণ সাংবিধানিকভাবে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তাঁকেই উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল কালের কণ্ঠের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা এ কথা বলেন।
মোরশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিকভাবে সংকট মোকাবিলায় দুটি পথ বেছে নিতে পারেন। একটি হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল সংসদে এনে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অথবা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নন ইস্যুকে ইস্যু বানানোর কাজ করেছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কেন, কোনো রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নেবে না। আর প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নিলে এ নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ জন্যই বিদেশিরা আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, বর্তমান সরকার এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করার কারণে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যদি সংবিধান সংশোধনের সময় সব দলের মতামত নেওয়া হতো, তবে আজ দেশে এ রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতো না। তিনি বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবরের পরেই শুধু নয়, দেশের রাজনৈতিক যে অবস্থা তাতে যেকোনো সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি টার্ন নিতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে মোরশেদ খান বলেন, ভারত তাদের দেশের সুন্দরবন এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়কারী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি পায়নি। সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় হতে যাচ্ছে। এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে অবশ্যই রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যত্র স্থানান্তর করবে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতির প্রশ্নই আসে না। কারণ যেখানে ভারত তাদের দেশে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে পারেনি। সেখানে আমরা কিভাবে আমাদের সুন্দরবন ধ্বংস করে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাব। তিনি বলেন, আমরাও বিদ্যুৎ চাই, তবে আমাদের দেশের পরিবেশ বিনষ্ট করে নয়। মোরশেদ খান বলেন, ভারত এ ক্ষেত্রে যে টেকনোলজির কথা বলছে, তা এখন আরো উন্নত হয়েছে। কিন্তু তাই বলে এই নয় যে নতুন টেকনোলজির মাধ্যমে সুন্দরবন এলাকায় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা আছে।
অন্য এক প্রশ্নে জবাবে মোরশেদ খান বলেন, বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি জনগণের জন্যই রাজনীতি করে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের আগামীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ঘোষিত সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সব নেতা-কর্মীকে মতবিরোধ ভুলে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল বলেই এত দিন জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচি দেয়নি।
মোরশেদ খান বলেন, আমরা এখনো চাই সরকার আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুক। যদি সরকার তা করতে ব্যর্থ হয় তবে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের একক নির্বাচনের পথ মোকাবিলা করবে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণে : মোশতাক আহমদ