বিশিষ্টজনরা বললেন

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব বিএনপির গ্রহণ করা উচিত

দেশের বিশিষ্টজনদের মতে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা ইতিবাচক, তবে তাতে কাঠামোগত বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। কেউ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ গঠনমূলক। কারো মতে, বিএনপির উচিত হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করে আলোচনায় বসা।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট কাটবে- এমন আশা করা যায় না। গতকাল শুক্রবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ওপর তাঁদের অভিমত এভাবেই প্রকাশ করেন।
বিশিষ্ট কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে একটি প্রস্তাব এসেছে। তবে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। তবু প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব ইতিবাচক। প্রধান বিরোধী দল বা জোটের উচিত হবে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রস্তাবে দুই পক্ষের সংলাপে বসার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনগণ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে চায় না। আশা করব, সরকার ও বিরোধী দল এই প্রস্তাবকে একটি ইতিবাচক পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে এবং দুই পক্ষই গণতন্ত্র সমুন্নত রাখায় ভূমিকা রাখবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে ‘গঠনমূলক’ অভিহিত করে আকবর আলি খান বলেছেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমঝোতার পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিত।’ তিনি গতকাল বিডিনিউজকে বলেন, ‘প্রাক-নির্বাচন রাজনীতিক ভাষণ এটি। এতে গঠনমূলক উপাদান রয়েছে। এখন তা ধরেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। বিরোধী দল কী চায় তা কখনো স্পষ্ট করেনি। এখন সংসদে আলোচনায় বসা উচিত। কোথায়, কিভাবে তাদের সঙ্গে একমত হওয়া যায় সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ইতিবাচক অভিহিত করে বিএনপিকে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। বিডিনিউজকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সমস্যার ৯৫ ভাগ সমাধান হয়ে গেছে। এখন বিএনপির উচিত তা গ্রহণ করে আলোচনায় বসা। প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সরকারের ডাক দিয়েছেন। এখন আলোচনায় বসে সুরাহা করতে হবে যে কিভাবে এটা করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তাব খুবই ভালো। এখন দুজনকে (খালেদা-হাসিনা) মিলে ভালোভাবে সেটাকে শেষ করতে হবে। গণতন্ত্রকে কিভাবে এগিয়ে নিতে হবে তা ঠিক করতে হবে।’
সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রণালয় বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা করার তাগিদ দিয়ে রফিক-উল হক বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে কারা কারা মন্ত্রিপরিষদে যাবে, কে কোন মন্ত্রণালয় পাবে সেটা ঠিক করতে হবে। এরশাদ সাহেবের লোকজন সেই মন্ত্রিপরিষদে যাবে কি না সেটাও ঠিক করতে হবে। কারণ সর্বদলীয় বললে তো এরশাদ সাহেবও চলে আসে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাবে বিস্তারিত কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনের শিক্ষক শাহদীন মালিক। তিনি গতকাল বিডিনিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করে বললে ভালো হতো। বিরোধী দল থেকে কয়জন মন্ত্রী নেওয়া হবে বা কোন দপ্তর দেওয়া হবে- এগুলো বিস্তারিত বললে ভালো হতো।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশিতভাবে তাঁর সরকারের সাফল্যের কথা বলেছেন। এটা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রায় পুরোটাই ছিল সরকারের প্রশংসা ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। আমরা আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে একটি সুষ্ঠু সমাধানের প্রস্তাব দেবেন। সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা বলবেন। জাতির কাছে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব হাজির করবেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে যে প্রস্তাব দিলেন তাতে অনেক অস্পষ্টতা রয়ে গেল। তাঁর প্রস্তাবে সুস্পষ্ট কাঠামোগত কোনো দিকনির্দেশনা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার কতজন সদস্যের হবে, বিরোধী দলের কতজন সদস্য থাকবেন সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে তাঁর এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে কি না, অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান কে হবেন সে বিষয়ে কোনো কিছুই বলেননি। তিনি আগের বলা কথাগুলোই আবার নতুন করে বললেন। এর মধ্য দিয়ে সংকট সমাধান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’