ফাইনাল খেলার ডাক দিলেন ফখরুল

যেকোনো মূল্যে ২৫ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট। তবে যেকোনো ধরনের বাধা এলে তাৎক্ষণিক প্রেস ব্রিফিং করে কর্মসূচি ঘোষণা করবে দলটি। তাতে হরতালসহ প্যাকেজ আন্দোলনের কর্মসূচি থাকবে বলে দলের একাধিক নেতা জানান। গতকাল মহানগর বিএনপির যৌথ সভায় ২৫ অক্টোবরের প্রতি ইঙ্গিত করে ‘ফাইনাল রাউন্ড’ খেলার জন্য নেতা-কর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার ডাক দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোয়াটার ফাইনাল, সেমিফাইনাল খেলা হয়ে গেছে। আর মাত্র সাত দিন আছে। এবার ফাইনাল খেলা। এই খেলায় আমাদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, এই খেলায় জয় হলে আমরা টিকে থাকব, নইলে অস্তিত্ব থাকবে না। এ জন্য মহানগরের নেতা-কর্মীদের সব ভেদাভেদ ভুলে আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে।’
মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, ‘২৫ অক্টোবর আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পণ্ড করা হলে আমরা বসে থাকব না। আওয়ামী লীগ যদি ২০০৭ সালের মতো লগি-বৈঠা নিয়ে মানুষ হত্যার কাজ করে, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। শক্ত হাতে আমরা এর জবাব দেব।’ সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই না। পাড়া-মহল্লায় নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ হামলা চালালে তার পাল্টাজবাব দেওয়া হবে। দা-কুড়াল-বল্লম-লাঠিসোঁটাসহ যা কিছু আছে, তাই নিয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে মহানগর কার্যালয়ের মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে মহানগর বিএনপির এক যৌথ সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সাদেক হোসেন খোকা এ আহ্বান জানান। খোকার সভাপতিত্বে যৌথ সভায় সদস্যসচিব আবদুস সালাম ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ মহানগর ও ওয়ার্ড নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৫ অক্টোবের ঢাকার সমাবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই যৌথ সভা হয়।
সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের পথ, রাস্তা ও লক্ষ্য একটাই, দুর্বার গণ-আন্দোলন, দুর্বার গণ-আন্দোলন, দুর্বার গণ-আন্দোলন। এ জন্য সব বিভেদ, দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া চাই।’ ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সরকার বুঝতে পেরেছে, তারা ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না। জনগণ তা দখল করে নেবে। তাই তারা ভয় পেয়ে এখন বলছে সংসদ থাকবে, সংসদ চলবে। সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আমরা সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনেক এদিক-ওদিক করেছেন। শেষ মুহূর্তে এসে জনগণের সঙ্গে আপনারা বেইমানি করবেন না। তাহলে পালাবার পথও পাবেন না।’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের অনেকে দেশের বাইরে চলে গেছেন। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক নেতা পরিবার বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’
২৫ অক্টোবর ঢাকার সমাবেশ সফল করতে মহানগর নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই সমাবেশ করতে গিয়ে বাধা আসতে পারে। তা মোকাবিলা করেই সমাবেশ সফল করতে হবে। জঙ্গিবাদ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের প্রচারণাকে অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা মিথ্যাচার করছেন। সরকার বিদেশিদের বুঝাতে চায়, বিএনপি এলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। কোথাকার কি ‘বিল্লা’ পার্টিসহ নামকাওস্তাতের নানা পার্টি সাজিয়ে অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে সরকার বিদেশিদের দেখাতে চায়, বিএনপির সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ক আছে। তাই তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। আসলে বিরোধী দলকে বাইরে রেখে এককভাবে নির্বাচন করার এটি একটি সাজানো কৌশল।” দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিশেষ করে ঈদের আগে পেঁয়াজ ও মরিচের মূল্য বৃদ্ধি এবং ছাত্রলীগের হাতে গরুর হাটের দখলসহ নানা কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
সাদেক হোসেন খোকা আরো বলেন, ২৪ অক্টোবরকে সামনে রেখে সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। তাদের হৃদকম্পন শুরু হয়ে গেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ অক্টোবরের পরও সংসদ চলবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ জন্য তারা শুধু রাজনৈতিকভাবে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সংসদ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। এটাই তাদের পরাজয়।
মহানগর সদস্যসচিব আবদুস সালাম বলেন, ‘রাস্তায় সমাবেশ পুলিশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। শুনেছি ২৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগ তার অফিসের সামনের সড়ক বন্ধ করে সমাবেশ করবে। আমরা পুলিশকে বলে দিতে চাই, আওয়ামী লীগকে যদি তার অফিসের সামনের রাস্তায় সমাবেশ করতে দেওয়া হয়, তাহলে আমরাও নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করব।’ ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে মহানগরসহ অঙ্গসংগঠনের মিছিল আনার বাধ্যবাধকতা দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘যেসব ওয়ার্ড থেকে মিছিল আসবে না, তাদের কমিটিও থাকবে না।’
গত ১০ অক্টোবর জনসভা করার জন্য বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পল্টন ময়দান অথবা নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে জায়গা চেয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো কিছু জানায়নি। ২৫ অক্টোবরের সমাবেশ সফল করার জন্য গতকাল যুবদলের সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, ফজলুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।