বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

ফেলানীর ন্যায়বিচার হবে সীমান্তে ড্রোন নয়

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হবে না।ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধান সুভাষ যোশী গতকাল বুধবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেছেন। এ সময় বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলেও বিএসএফের প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, গোলাগুলি ও মারধরের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানেরা পিলখানায় বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য দেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের এ বৈঠক ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে শুরু হয়েছিল।বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে ভারতের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সুভাষ যোশী বলেন, ‘বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আগামীতেও এমন কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হবে না।’ফেলানী হত্যা মামলা প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএসএফের প্রধান বাংলাদেশের কিশোরীর হত্যাকাণ্ডকে বিয়োগান্ত হত্যা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এ কারণেই এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে (জিএসএফসি) বিচার পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের সঙ্গে একমত হতে না পারায় মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।’সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুভাষ যোশী বলেন, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে দুই পক্ষ কাজ করছে। এটি দুই পক্ষেরই দায়িত্ব। গত কয়েক বছরে হতাহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। সীমান্তে হতাহতের অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তদন্ত করা হয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত তিন বছরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযুক্ত বিএসএফের অন্তত তিন সদস্যকে মৃতুদণ্ড দেওয়ার নজির রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কোন কোন এলাকায় অনভিপ্রেত ঘটনাগুলো ঘটে, সে ব্যাপারে তালিকা করে দুই পক্ষের মধ্যে তা বিনিময় করা হবে। এরপর ওই সব এলাকায় যৌথভাবে টহল চালানো হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মরত বিএসএফের সদস্যদের সংবেদশীল করতে বাংলা ভাষা শেখানো হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার জনগণকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোনো বন্ধের জন্য সংবেদনশীল করা হবে।