রাজশাহী গ্যাস বিতরণ প্রকল্প

বছরে ২২ লাখ টাকা ভ্রমণ ব্যয়, তদন্তে দুদক

রাজশাহী গ্যাস বিতরণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা এক বছরে ২২ লাখ টাকার ভ্রমণ খরচ করেছেন। এ খাতে এত খরচের সংস্থান ছিল না। আবার প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান না হলেও সেই খাতে তিন লাখ ২৮ হাজার ৭৭৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এসব অনিয়মের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, পিজিসিএলের রাজশাহী গ্যাস বিতরণ প্রকল্পটি ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চলে। এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ছিলেন রেজাউল ইসলাম খান। এখন তিনি কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন)। তাঁর বিরুদ্ধেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে। এ প্রকল্পে সাত-আটজন কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। তাঁরা ২০১০ সালের ৪ জুলাই থেকে ২০১১-এর ৩০ জুন পর্যন্ত ২৩৩ কর্মদিবসের মধ্যে ১২২ দিনই ভ্রমণ করেছেন। এ জন্য তাঁরা ২২ লাখ ২৭ হাজার ৩০৩ টাকা ভ্রমণ বিল তুলে নিয়েছেন। ওই সময়ে কোম্পানির ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এর চেয়ে অনেক কম টাকা খরচ হয়েছে।

ভ্রমণ ভাউচারের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ভাউচারে টাকার পরিমাণ হচ্ছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৩। ভাউচারটি ২০১১ সালের ২০ এপ্রিলের, নম্বর ৪৪৪। একইভাবে তাঁরা এক লাখ টাকার বেশি সাতটি ভাউচার যুক্ত করেছেন। দেশের ভেতরে ভ্রমণের জন্যই এসব বিল করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ১৪টি ভাউচারের মাধ্যমে তিন লাখ ২৮ হাজার ৭৭৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পের বিতরণ অংশের কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই হয়নি। শুধু ট্রান্সমিশন অংশের উদ্বোধন হয়েছে। সেই খরচ ট্রান্সমিশন কোম্পানি বহন করেছে। আবার উদ্বোধন সাধারণত এক দিনই হয়। কিন্তু এই ভাউচারগুলো বিভিন্ন তারিখে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০১১ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে গাড়ি মেরামতের জন্য প্রকল্পের দু-তিনটি গাড়ি মেরামত খাতে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। প্রকল্প শুরুর বছরে মুদ্রণ ও মনিহারি খাতে চার লাখ ৩৫ হাজার ২১১ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। খরচ দেখিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য ‘ক্যারি বয়’ পিকআপ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু পরিচালক একটি অত্যাধুনিক জিপ মাসিক এক লাখ টাকা ভাড়ায় দুই বছর ব্যবহার করেছেন। পরিচালকের বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে পিজিসিএলের এক কর্মকর্তা দুদকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ১৯ আগস্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে খরচের প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। এ ব্যাপারে প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক রেজাউল ইসলাম খানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন বলেন, দুদক ছয়-সাত বছরের পুরোনো সব কাগজ চেয়েছে। এগুলো সংগ্রহ করতেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি তদন্তাধীন বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর তা বাতিল করা হয়। এ জন্য খরচ হয়েছিল কিন্তু এত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কীভাবে করল, তা বুঝতে পারছেন না। প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে তিনি ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছেন দাবি করে বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা নেই। শুধু রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ।