আ ই ন শৃ ঙ্খ লা: সরকারের ৫ বছর

বন্ধ হয়নি ক্রসফায়ার, উৎকণ্ঠা ছড়ায় গুম

নির্বাচনী ইশতেহারে বিচার-বহির্ভূত হত্যা বন্ধ করার কথা বলেছিল আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলে থাকার সময়ও দলটির নেতারা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর তাঁরা এটি বন্ধ করতে পারেননি। ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘এনকাউন্টারের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলেছে। উপরন্তু যুক্ত হয়েছে গুম ও গুপ্তহত্যা।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় দৃশ্যমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনাগুলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম
অবনতি ঘটিয়েছিল। তুলনামূলক বিচারে সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। ক্রসফায়ার চললেও গত কয়েক মাসে এ ধরনের ঘটনা কমেছে।
সরকারের শেষ বছরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা মাত্রা ছাড়িয়েছে। বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বহু সম্পদ নষ্ট করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এই মঞ্চ নাস্তিকতা ছড়াচ্ছে অভিযোগ তুলে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গত ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করতে এসে ব্যাপক সহিংসতা চালায় হেফাজতে ইসলাম। এদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অভিযান নিয়ে এখনো নানা গুজব ও বিতর্ক রয়েছে। তবে এরপর বড় ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে সফল হয়েছে পুলিশ।

তবে গত পাঁচ বছরে দেশে সংঘবদ্ধ অপরাধ অনেক কমেছে। জঙ্গি তৎপরতা নেই বললেই চলে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীদের শক্ত হাতে দমন করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধ আর চরমপন্থীদের দমনের প্রধান হাতিয়ার ছিল ‘ক্রসফায়ার’। এর ভয়ে অনেক সন্ত্রাসী বিদেশে পালিয়েছে, কেউ দেশের ভেতরেই গা ঢাকা দিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নিপীড়নের অভিযোগ আগের মতোই রয়ে গেছে।

শাপলা চত্বরের অভিযান নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে সরকার গত ১০ আগস্ট অধিকারের প্রধান আদিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৪ সেপ্টেম্বর আইসিটি অ্যাক্টের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১১ অক্টোবর জামিনে ছাড়া পান তিনি।

জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। দেশে কোনো মারাত্মক অপরাধ নেই, জঙ্গিবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ কমে গেছে। মানুষের মন থেকে অপরাধভীতিও অনেক কমেছে। তা ছাড়া প্রতিটি ঘটনার বিচার হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের আমলে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ খুন ও ডাকাতির মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি সমালোচিত হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় কয়েক দফায় এ পর্যন্ত সাত হাজার ১৭৩টি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০১০ সালের নভেম্বরে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদতসহ ১৯ জনের নামে করা খুনের মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ সমালোচনার ঝড় তোলে। সরকারের শেষ বছরে তড়িঘড়ি করে বিকাশসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে বিশেষ মহলের চাপে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। হত্যা মামলার দণ্ড পাওয়া আসামি লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগের নেতা আবু তাহেরের ছেলে বিপ্লবকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ঘটনা সমালোচিত হয়। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে ছবি সংযুক্ত করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ তুলে রামুতে বৌদ্ধমন্দির ও বসতির ওপর হামলা চালানো হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী বেশ কয়েকটি বৌদ্ধমন্দির ও বসতি।

গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটির ১৫তম সভার তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে ১৬১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ২৪৮ জন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয় হাজার ৪০৫ জনকে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণে খুনোখুনির ঘটনায় সরকার সমালোচিত হয়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির। আবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির ঘটনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেয়। ছাত্রলীগের নেতাদের গুলিতে ময়মনসিংহে একটি শিশু এবং চট্টগ্রামে টেন্ডার নিয়ে যুবলীগের গোলাগুলিতে আরেকটি শিশু নিহত হয়। পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী বিশ্বজিৎ দাস নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেন। রক্তাক্ত শরীরে পালিয়ে গিয়েও রেহাই পাননি বিশ্বজিৎ। সমালোচনার মুখে ওই হত্যার সঙ্গে জড়িত সরকার-সমর্থকদের বিচারের আওতায় আনা হয়।

সাম্প্রতিক হরতালগুলোতে প্রচুর যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রাণ গেছে বেশ কয়েকজন চালক ও যাত্রীর।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা আজও হয়নি।

ক্রসফায়ার, গুম ও গুপ্তহত্যা: সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, ২০০৮-এ অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে একটি ছিল ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা’। এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা বন্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, ক্রসফায়ারের প্রবণতা কিছুটা কমে গেলেও হঠাৎ বেড়ে যায় গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনা। এগুলো ক্রসফায়ারেরই বিবর্তিত রূপ।

গত বছরের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানীর সড়ক থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির নেতা সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী। এর আগে ২০১০ সালের ২৫ জুন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে বিএনপির নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর চৌধুরী আলম নিখোঁজ হন। এ রকম আরও অনেক ঘটনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে, তদন্ত চলছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৬৭৫ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন ৩২৩ জন। এর বাইরে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার গুলিতে, গ্রেপ্তারের পর নির্যাতন, আত্মহত্যা ও অসুস্থ হয়ে অন্যরা মারা গেছেন।

আসকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা (পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী) অপহূত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে। কয়েকজনকে অপহরণের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা এখনো নিখোঁজ।

আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরেই এসব বিষয় নিয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম—এসব বিষয়ে অস্বীকৃতির মনোভাব নিয়েছিল, যেন এগুলো হয়নি। তিনি বলেন, সরকার যাকে খুশি তাকে জেলে ভরেছে, ছেড়ে দিয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। অনেক মানুষকে অপরাধী চিহ্নিত করে বিচার করতে গেছে, যেমন লিমন।

সুলতানা কামাল বলেন, এ সরকার মানুষের অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অনেক দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের কারণে পারেনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এ সরকার নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করেনি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত’ রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। পুরো সময়জুড়ে পুলিশ বাহিনীতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার লোকের বিশেষ প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ-পদোন্নতির অভিযোগ রয়েছে। সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের দুই কর্মকর্তার প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে মারধরের পরপরই সেই কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়েছেন। চলতি বছর বিএনপির কার্যালয়ের তালা ভেঙে মহাসচিবসহ ১৫৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে। যানবাহন ভাঙচুরের মামলায় বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আসামি করে বারবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কমেছে সংঘবদ্ধ অপরাধ: পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরে (২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত) চার হাজার ৩৮৮টি ডাকাতির মামলা হয়েছে। আর বর্তমান সরকারের চার বছরে (২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত) ডাকাতি মামলা হয়েছে দুই হাজার ৬৬৩টি। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ডাকাতি মামলা হয়েছে ৫৫টি।

বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরে অস্ত্র মামলা হয়েছে ১১ হাজার ১১১টি। বর্তমান সরকারের চার বছরে হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৮০টি। চলতি বছরের নয় মাসে অস্ত্র মামলা হয়েছে ১৪৮টি।

বিএনপির পাঁচ বছরে ৭৬ হাজার ৭১৩টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। বর্তমান সরকারের চার বছরে ৭৪ হাজার ৮৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এ রকম ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ৯৫৬টি।

বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরে চার হাজার ৩২১টি অপহরণের মামলা হয়েছে। বর্তমান সরকারের চার বছরে তিন হাজার ৩৭০টি অপহরণ মামলা হয়েছে। চলতি বছরের নয় মাসে হয়েছে ৮৯টি।

র‌্যাব-পুলিশের অমানবিক কর্মকাণ্ড: ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরের সাটুরিয়া গ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে কলেজ পড়ুয়া কিশোর লিমন হোসেনের পায়ে গুলি করে র‌্যাব। পরে লিমনের বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়। সেই লিমনকে সন্ত্রাসী সাজিয়ে মামলাও করা হয়। বেশ দেরিতে হলেও সরকারের সিদ্ধান্তে সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

২০১১ সালের ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে ডাকাত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র আবদুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করে খিলগাঁও থানার পুলিশ। এরপর থানা হেফাজতে কাদেরকে নির্যাতন করা হয়। তাঁর পায়ে চাপাতি দিয়ে কোপ মারেন খিলগাঁও থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন।

একই বছরের ২৭ জুলাই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চরকাঁকড়া সামছুদ্দিন মিলন নামের এক তরুণকে ডাকাত হিসেবে জনতার হাতে তুলে দেয় পুলিশ। পরে জনতা মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করে।

২০১২ সালে মামুন নামের এক আসামিকে প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। পরে প্রতিপক্ষ মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতি সাংঘর্ষিক হলে সংঘাত তো হবেই। তবে সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো অবনতি দেখিনি। কিছু জায়গা বিশেষে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে একই প্রবণতা লম্বা-চওড়া সময় ধরে ছিল না।’