বাংলাদেশিসহ ৭৫০ জন অভিবাসী উদ্ধার

bangl

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে আজ শুক্রবার ৬১ শিশুসহ ৭৫০ জনের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিবাসী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি। তাঁদের আচেহ প্রদেশের লাংসা শহরে রাখা হয়েছে। খবর এএফপির।

পুলিশ জানায়, মালয়েশিয়া থেকে বিতাড়িত হয়ে ফেরার পথে সুমাত্রা দ্বীপের পূর্ব উপকূলে এসব অভিবাসীকে বহনকারী নৌকাটি ডুবতে বসেছিল। স্থানীয় জেলেরা তাঁদের উদ্ধার করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানব-পাচার সংকটে সহযোগিতার জন্য মিয়ানমারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তারা একটি পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলন বর্জনের হুমকি দিয়েছে।

লাংসার পুলিশ প্রধান সুনারয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা তাঁদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি তাঁরা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু সে দেশের নৌবাহিনী তাঁদের ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় ঠেলে দেয়।’

উপকূলের কাছাকাছি অন্য আরেকটি নৌকায় ছিল ৪৭ জন অভিবাসী। ক্ষুধার্ত এসব মানুষ পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার মিনতি জানায়। স্থানীয় জেলেরা তাঁদের উদ্ধার করে।

মানবাধিকার কর্মীরা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগর থেকে এখন পর্যন্ত আট হাজারের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে উদ্ধার করা হওয়া অভিবাসীদের ১৩ জনকে আচেহ প্রদেশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, আজ ভোরে থাইল্যান্ড থেকে ৩০০ রোহিঙ্গা নিয়ে একটি নৌকা ছেড়ে গেছে। সেখানে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। তাদের বহনকারী নৌযানের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা গেলে গতকাল বৃহস্পতিবার তারা তা ঠিক করতে থাইল্যান্ডের কোহ লাইপ দ্বীপে পৌঁছান। পরে নৌযানের ইঞ্জিন সারিয়ে তাঁদের সঙ্গে কিছু খাবার দিয়ে দেওয়া হয়।

নৌকার যাত্রীরা সাংবাদিকদের বলেন, দুই মাস ধরে তাঁরা সাগরে। এরই মধ্যে ক্ষুধা ও অসুস্থতায় ১০ জন মারা গেছেন। পরে তাঁদের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

নৌকার থাকা সাজিদা নামের এক নারী বলেন, এক সপ্তাহ ধরে তাঁদের খাবার নেই। চোখে ঘুম নেই। তাঁর সঙ্গে থাকা চার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

থাইল্যান্ডের সাতুন প্রদেশের গভর্নর দেজরাট লিমসিরি এএফপিকে বলেন, নৌকাটি মালয়েশিয়ার দিকে আসছিল। তবে এখন এটি ইন্দোনেশিয়ার পথে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ পরিস্থিতিকে মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ‘পিং পং খেলা’ বলে মন্তব্য করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে নিজ নিজ দেশের সীমান্ত ও বন্দর খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি এসব দেশগুলোকে মনে করিয়ে দেন যে বিপদগ্রস্ত নৌকাগুলো উদ্ধার করতে তারা বাধ্য। সম্ভাব্য শরণার্থীদের বহিষ্কারের ওপর যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার প্রতিও তাদের সম্মান দেখানো উচিত।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সাগরের ভাসমান মানুষের জীবন বাঁচাতে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।