বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চায় আ’লীগ

শাহেদ চৌধুরী
‘প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সংলাপ হতে পারে’_ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এ প্রস্তাবে বিস্মিত হয়েছে আওয়ামী লীগ।
দলের নেতারা বলেছেন, অবাক কাণ্ড। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে এমন প্রস্তাব সরাসরিই দিতে পারতেন বিরোধীদলীয় নেতা। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি বিদেশি দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এমনটি ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, আন্তরিক হলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে পারে।
আগামীতে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দলের সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে সংলাপের প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনায় আনা হবে বলেও সরকারি দলের নেতারা আশ্বস্ত করেছেন। একই সঙ্গে তারা সংবিধানের ভেতরে থেকেই সংলাপের তাগিদ দিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা সোমবার চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনাকালে সংলাপে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ নিজ পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন। পরে ঢাকায় চীনের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
এই খবর বুধবারের সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কম-বেশি সবাই হঠাৎ করে এমন প্রস্তাবনার পেছনের কারণ খুঁজতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে এ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সমকালকে জানিয়েছেন, সংলাপের বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সংলাপে বিশ্বাসী। তবে সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে সংলাপের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার মধ্যকার সংলাপ ব্যর্থ হয়েছিল।
মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এপ্রিল মাসে সংকট নিরসনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন খালেদা জিয়া। উল্টো তিনি দেশজুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামকে উস্কানি দিয়েছেন। এরপরও দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ হলে সংবিধানের ভেতরে থেকেই সংকটের সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে রীতিমতো অবাক হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি বলেছেন, অনেক আগে এ ধরনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের নৈরাজ্যকর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ওই সম্ভাবনা নষ্ট করা হয়েছে। এরপরও আওয়ামী লীগ সংলাপের বিপক্ষে নয়। কিন্তু বিদেশি দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন প্রস্তাবনা দেওয়া হবে কেন। এটা অপ্রত্যাশিত।
নূহ-উল-আলম লেনিন জানিয়েছেন, দুই দলের সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে সংলাপের বিষয়ে বিএনপির পক্ষে আওয়ামী লীগকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হলে সেটা বিবেচনায় আনা হবে। তবে সংবিধানের ভেতরে থেকেই সংলাপ করতে হবে।