বিদেশে পদায়নের হিড়িক মন্ত্রী ও ক্ষমতাঘনিষ্ঠদের

বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কম্পট্রোলার পদে নিয়োগ পান সুবীর কুমার নামের এক ব্যক্তি। প্রথম শ্রেণীর এই পদে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। এবার সেই সুবীরকে বিদেশে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার জোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। আর এর ফল হিসেবে ওই মন্ত্রণালয়ের অতি ক্ষমতাধর এক শীর্ষ কর্মকর্তা তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মকসুদ খান কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পোস্টিং নিয়ে চলে গেছেন বেশ আগেই। এবার সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রথম সচিব হিসেবে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম কবির। বিসিএস তথ্য ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বর্তমানে সিনিয়র সহকারী সচিব।
আবার সহকারী সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী অপর্ণা রাণী পাল আগেই পোস্টিং নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন কানাডায়। একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া আরেক ছাত্রলীগ নেত্রী সূচনা রানী হালদার গত সপ্তাহে বদলি হয়েছেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে।
অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রীর দপ্তরের ক্ষমতাধর কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের পছন্দের ব্যক্তিরা একের পর এক বিদেশে পদায়ন পাচ্ছেন; আগামী দিনগুলোতেও অনেকে এভাবে বিদেশে পদায়নের অপেক্ষায় আছেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা-অযোগ্যতার কোনো বাছবিচার নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-নেত্রী, অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত, এমনকি গৃহিণীদেরও বড় পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরো দেখা গেছে, অন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রেষণে আসা কিছু কর্মকর্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেই রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের জোরে বিদেশে পদায়ন বাগিয়ে নেন। অনেক সময় তাঁদের দাপটের কাছে অসহায় হয়ে থাকেন পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ মিশনগুলো পররাষ্ট্র ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য আকর্ষণীয় পোস্টিংয়ের জায়গা। এখন এই মিশনগুলোতে প্রভাবের জোরে পদায়ন হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে আসা কর্মকর্তা বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের ওপর যোগ হয়েছেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসা জিষ্ণু রায় চৌধুরী। ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার সময় তিনি ছিলেন উপসচিব। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা অবস্থায়ই তিনি পদোন্নতি পেয়ে হন যুগ্ম সচিব। অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতির পরও তিনি আছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তিনি এখন দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হিসেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঠামোয় এ ধরনের কোনো পদ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কিছুরই নিয়ন্ত্রক এখন এই অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জিষ্ণু রায় চৌধুরী। বিদেশে বদলি থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বদলি সব কিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। বিদেশে পদায়নের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সব কিছুই হয় তদবির আর অতিরিক্ত সচিবের মর্জিমাফিক। তাঁর পাঠানো প্রায় সব সুপারিশ পররাষ্ট্রসচিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে অনুমোদন হয়।
সূত্র আরো জানায়, পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নানা অভিজ্ঞতা লাভ করেন। পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তাঁরা বিদেশে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনৈতিক ও মহলবিশেষের পছন্দ-বিবেচনায় এমন ব্যক্তিরা বিদেশে পদায়ন পাচ্ছেন যাঁদের কূটনীতি সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা যেমন নেই, তেমনই নেই ভাষাগত দক্ষতাও।
অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, অন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা স্বল্প সময়েই বিদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে চলে যান। অথচ পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা সেই তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে পদায়ন পান।
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক বছরে দলীয় ক্যাডার, ক্যাডারদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনকে মধ্যম এবং নিম্নস্তরের কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যাঁরা অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণী প্রাপ্ত, আবার অনেকে ছিলেন গৃহিণী। ফলে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিচের পদেও একই ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান টিপুকে ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তাঁর পেশা ছিল রাজনীতি।
ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক এক আওয়ামী লীগ এমপির ছেলে শাহেদুর রহমানকে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাঁর পেশা ছিল রাজনীতি। কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত অপর্ণা পাল ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েত-মৈত্রী হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। অনার্স ও মাস্টার্সে তৃতীয় শ্রেণী পেয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম ওয়াহিদুজ্জামানের স্ত্রী মৌসুমী ওয়াইসকে একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মরহুম রুহুল আমীনের স্ত্রী আনিসা আমীনকে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদে নিয়োগের আগে তিনি ছিলেন গৃহিণী।
ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নার স্ত্রী ইরিন পারভীন বাঁধনকে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সিলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক ফারুক আমীনের স্ত্রী রওনক আমীনকে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পররাষ্ট্র ক্যাডার কর্মকর্তাদের কোনো ভুল বা অনিয়মের ফলে যে শাস্তির খড়্গ নেমে আসে, এই মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে আসা বা বিদেশে পদায়ন হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তেমনটি হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসের একজন কূটনীতিককে সেখানকারই এক বাংলাদেশি গোয়েন্দা কর্মকর্তা মারধর করেন। তিনি বলেন, এ রকম এক ভয়াবহ ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে প্রহারকারী ওই কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে আছেন আর মারধরের শিকার হওয়া ব্যক্তির উল্টো শাস্তি পাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, মারধরের ঘটনার পর সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, প্রহারকারী ব্যক্তি একটি বিশেষ সংস্থার কর্মকর্তা। সাধারণত বিশেষ উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিদেশে পদায়ন করা হয়। কিন্তু যখন বিশেষ বাহিনীর সদস্য বা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ হয়ে যায়, তখন তাঁকে সেখানে পদায়নের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মারধরের ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যেত। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা সেই সাহস করেননি। এতে হতাশ হয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বেশ কয়েক দিন পর জেদ্দায় মারধরের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির কাছে তাঁদের জবানবন্দিও বদলে গেছে।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় হতাশ পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়ে তুলনামূলক নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশার মাত্রা বেশি। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হিসাব-নিকাশ করছেন আগামীতে বর্তমান সরকারের থাকা না থাকার সম্ভাবনা নিয়ে। সরকার বদলালে কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি ছুটি নিয়ে বিদেশি কোনো সংস্থায় চাকরির কথা ভাবছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
আবার বর্তমান সরকারের অনেক নীতি ও সিদ্ধান্ত পছন্দ করেননি, এমন কর্মকর্তারা আশা করছেন নতুন সরকার এলে তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে তাঁরা যেটিকে দেশের স্বার্থের জন্য সহায়ক নয় বলে মনে করেছেন, সরকার সে রকমটি মনে করেনি। এর জন্য তাঁদের ভর্ৎসনাও শুনতে হয়েছে বিভিন্ন সময়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। এবার মহাজোট সরকারেও পায়নি। মূলত এ কারণেই মন্ত্রণালয়টিতে বেসামাল অবস্থা চলছে। বর্তমান সরকারের আমলে একাধিক দেশে অপেশাদার কূটনীতিকদের কারণে বাংলাদেশকে বিব্রত হতে হয়েছে। এসব ঘটনা দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে। পররাষ্ট্র ক্যাডারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা বিসিএস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করে পররাষ্ট্র ক্যাডারে এসেছেন। তাঁদের বেশ উচ্চাশা ছিল। কিন্তু সব আশা গুড়ে বালি হতে চলেছে। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশের সঙ্গে কাজ করে। অথচ সব সাফল্য লুটে নেয় অন্য মন্ত্রণালয়। আর ব্যর্থতা সব বর্তায় পররাষ্ট্রের ঘাড়ে।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে বিভিন্ন মিশনে চাকরি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই কলঙ্কিত করা হয়েছে। এখন অদক্ষ ও অপেশাদার কূটনীতিক বিদেশে পাঠিয়ে দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হচ্ছে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য। অথচ কূটনীতিতে তাঁদের কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। আবার তাঁদের কেউ কেউ স্বাভাবিক মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পরও তাঁদের ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেই, এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে। এখানে সব নিয়মশৃঙ্খলা যেন ভেঙে পড়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে থাকায় এসব অভিযোগের ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও এসব ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।