সাক্ষাৎকারে আল্লামা শফী

বিধবার জমি কেড়ে ফাইভ স্টার হোটেল ম্যারিয়ট!

মদ ও নেশার ছোবলে দেশে যুবসমাজের নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের স্খলন ঘটছে। দেশও ধাবিত হচ্ছে অধঃপতনের দিকে। তাই মা-বাবার জীবনও এখন সন্তানের কাছে নিরাপদ নয়। ঐশী তার সর্বশেষ প্রমাণ। নেশাগ্রস্ত এ মেয়ে মা-বাবাকে হত্যার অভিযোগে এখন জেলে রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার (বড় মাদ্রাসা) মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী কালের কণ্ঠের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

আল্লামা শফী দেশ ও জাতিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দাবি করেন। তিনি গত শুক্রবার হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে এ সাক্ষাৎকার দেন। এ সময় তাঁর প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদসহ সংগঠনের আরো কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারে আল্লামা শফী দেশে উৎপাদিত হান্টার, বিয়ারসহ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও এনার্জি ড্রিংকসের নামে ব্যাপক হারে মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও বিপণনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব মদ, গাঁজা ও নেশার ক্ষতিকর দিক নিয়ে আগেও অনেক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছি।’ দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে আল্লামা শফী বলেন, ‘সরকারের উচিত মাদকবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটানো। আমরা তা চাই।’ আল্লামা শফী উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসা সব সময় নীতি-নৈতিকতার কথা বলে।

হেফাজতের আমির বলেন, কেবল মাদকই নয়, দেশে আজ অপসংস্কৃতি ভর করেছে। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বেপর্দা ও বেহায়াপনার কারণে দেশ অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বরাবর এসবের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

সাক্ষাৎকারে হেফাজতের ১৩ দফা আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বলে উল্লেখ করে আল্লামা শফীর প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ বলেন, ‘এই ১৩ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা ঢাকার মতিঝিলে সর্বোচ্চ সমাবেশ করেছি। সেখানে রাতের অন্ধকারে সমাবেশকারীদের ওপর হামলা, কোরআন হাদিসের বই পোড়ানোসহ যে কাণ্ড ঘটেছিল প্রধানমন্ত্রী তার সুষ্ঠু তদন্তের কথা বলেছিলেন। আমরা এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু বারবার এ ঘটনার তদন্তের কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। অথচ আমরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের ভিত্তিতে তখন বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম।’