আইসিটি আইন পাস

বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তারের বিধান জামিনও হবে না

‘তথ্যপ্রযুক্তি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১৩’কে আইনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (সংশোধন) আইন ২০১৩’ পাস হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধে পুলিশ চারটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বিনা ওয়ারেন্টে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। অপরাধগুলো জামিন অযোগ্যও করা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল রবিবার বিকেলে শুরু হওয়া অধিবেশনে তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটির ওপর জনমত যাছাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোসহ সংশোধনীর প্রস্তাব দিলেও তাঁরা সংসদে না থাকায় সেগুলো উত্থাপিত হয়নি।
পাস হওয়া আইনে শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে ন্যূনতম সাত বছর এবং সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজার বিধান ছিল। আগের আইনে মামলা করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু আইন সংশোধনের ফলে পুলিশ অপরাধ আমলে নিয়ে মামলা করতে পারবে।
মূল আইনের ৫৪ ধারায় বর্ণিত অপরাধ- কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ইত্যাদির অনিষ্ট সাধন, ৫৬ ধারায় বর্ণিত- কম্পিউটার সিস্টেমের হ্যাকিংসংক্রান্ত অপরাধ, ৫৭ ধারায় বর্ণিত- ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত অপরাধ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত- সংরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশসংক্রান্ত অপরাধের দণ্ড পরিবর্তন করে ‘অনধিক দশ বছর কারাদণ্ডের’ স্থলে ‘অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ড’ শব্দাবলি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
মূল আইনের ৭৬ ধারায় সংশোধনী এনে ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (কগনিজেবল) অর্থাৎ এসব অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারবে এবং এসব অপরাধকে অজামিনযোগ্য করা হয়েছে। এই ধারার অনুচ্ছেদ (২) প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে- ‘(ক) ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১-এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (কগনিজেবল) ও অজামিনযোগ্য হইবে এবং (খ) ৫৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৬৫-এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (নন-কগনিজেবল) ও জামিনযোগ্য হইবে।’
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও প্রয়োগ নিশ্চিত এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনটি যুগোপযোগী করে বাস্তবতার আলোকে কতিপয় ধারা/উপধারার পরিমার্জন ও সংশোধনের প্রয়োজন। তাই বিলটি পাস করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। এর আগে ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (সংশোধনী) ২০১৩’ নামের একটি অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। ওই অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। অধ্যাদেশ থেকে ৫৭ ধারা বাতিল করে জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশটি অনুমোদনের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদানেরও সমালোচনা করা হয়। কিন্তু সে দাবি আমলে না নিয়েই সংসদে বিলটি পাস করা হয়েছে।