বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার সাক্ষীকে পুলিশের মারধর

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রিকশাচালক রিপন সরদারকে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সকালে শরীয়তপুর থেকে লঞ্চযোগে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছার পর তাঁকে পুলিশের এক সদস্য মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।আজ রোববার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার সাক্ষ্য-জেরার ধার্য তারিখ। এ জন্য সাক্ষী রিপন ঢাকায় আসেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি প্রথম আলোকেবলেন, ‘ইউনিফর্মধারী তিন পুলিশ আমারে কয়, তুই না বিশ্বজিৎকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেছিস? তুই-ই তো ওসির চাকরি খাইছস। আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাবি? এসব কইতে কইতে শাহ আলম নামের এক পুলিশ আমার গালে একের পর এক চটকানা মারতে থাকেন। এরপর আমার কোমরে গুঁজে রাখা চার শ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ওই পুলিশ।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় সূত্রাপুর থানার ওসির চাকরি চলে গেছে। তাহলে অভিযোগ ওঠা পুলিশ সূত্রাপুর থানার কনস্টেবল হতে পারে। তার পরও তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন।

রিকশাচালক রিপন বলেন, আগে তিনি ঢাকায় রিকশা চালাতেন। বিশ্বজিৎ হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। নিরাপত্তার কারণে তাঁকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে রিকশা চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি শরীয়তপুর শহরে রিকশা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ১৭ দিন আগে তিনি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। কয়েক দিন আগে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফোনে তাঁকে আদালতে জেরায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসতে বলেন। এ কারণে শরীয়তপুর থেকে লঞ্চে গতকাল ভোররাত ঢাকায় সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছান। টার্মিনাল থেকে রাস্তায় নামার পরপরই পোশাকধারী তিনজন পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরে এবং মারধর করে।

রিপন বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় গত মাসে শরীয়তপুরের ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী তাঁকে রাস্তায় আটকে পেটান। ওই জেলার নড়িয়ার মাইজপাড়ায় তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে থেকে তিনি নানা ঝামেলায় পড়ছেন। তিনি তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।