ভারতের বিদ্যুৎ ও রামপাল কেন্দ্রের উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নয়াদিল্লিতে। দুই প্রধানমন্ত্রীর সামনে ডিজিটাল ক্যানভাস। হাজার মাইলের ব্যবধান ঘুচিয়ে একসঙ্গে দুই প্রধানমন্ত্রী দুটি দেশের মানুষের সামনে হাজির হন ওই ক্যানভাসের মাধ্যমে। বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল সুইচে চাপ দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু হয় ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ। উপস্থিত লোকজন করতালি দিয়ে স্বাগত জানায় এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে।
গতকাল ৫ অক্টোবর শনিবার দিনটি এই ঘটনার স্মারক হিসেবে ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে থাকবে। তার কারণ শুধু বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচন নয়। এর আরও কারণ ‘উচ্চ ভোল্টের ডাইরেক্ট কারেন্ট (এইচভিডিসি)’-এর আন্তদেশীয় সঞ্চালন লাইন ভারতীয় উপমহাদেশে এটিই প্রথম। ভারতের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আছে। তবে তার প্রকৃতি এ রকম নয়। এই সঞ্চালন লাইন দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সহায়তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্র অনেক প্রশস্ত করবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এই কথাই বলেছেন।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি গতকাল একই সময়ে রামপালের এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও ঘোষণা দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য ২২ অক্টোবর শেখ হাসিনা রামপালে গিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন। সেদিন মনমোহন সিং সময় দিতে পারবেন না বলেই গতকাল একই সঙ্গে যৌথ ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নর রামকৃষ্ণপুর গ্রামে অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। ১১টা ৩১ মিনিটে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভিডিও সমেঞ্চলন শুরু হয়। তাতে প্রথমে শেখ হাসিনা চার মিনিট শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। ১১টা ৩৫ মিনিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেন।

এর আগে গত ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ মেগাওয়াট থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালিত হয়। তার পর থেকে গতকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত সঞ্চালন বন্ধ রাখা হয়। গত আগস্ট মাসের শুরু থেকেই এই আন্তদেশীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি পরীক্ষার কাজ চলেছে। আগামী নভেম্বর মাসে ভারত থেকে ৫০০ (সরকারি খাত থেকে ২৫০ ও বেসরকারি খাত থেকে ২৫০) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হবে। তার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসবে সর্বোচ্চ ১৭৫ মেগাওয়াট।

গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের নবায়নযোগ্য জালানিমন্ত্রী ড. ফারুক আবদুল্লাহ, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর জালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মোহামঞ্চদ এনামুল হক, বিদ্যুৎসচিব মনোয়ার ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পিজিসিবির পরামর্শক পি কে সিনহা প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমাদের দায়িত্বের শেষ প্রান্তে এসে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি।’

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কেউ কেউ পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দিইনি বা ভবিষ্যতে দেব না। সব ধরনের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমার সরকারই সুন্দরবন রক্ষায় এবং একে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র যাতে পরিবেশের ক্ষতি না করে, সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বায়ু ও পানি দূষণরোধে উন্নতমানের কয়লা ব্যবহার করা হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ খাতসহ তাঁর সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন।

ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তৃতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপি এলে জঙ্গি দুর্নীতি ফিরবেq