ভারতে বাংলাদেশিকে ধর্ষণ-হত্যা: লাশ ময়নাতদন্তের নির্দেশ

court
ভারতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার এক বাংলাদেশি গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্ত করে পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

আগfমী ১৬ জুনের মধ্যে খুলনার পুলিশ কমিশনার ও সোনাডাঙা থানার ওসিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা- উল হক ও আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

ওই নারীর লাশ হস্তান্তরের সময় দেওয়া যাবতীয় কাগজপত্র ওই সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

নিহত নার্গিস আক্তারের মামী রাহেলা বেগম এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এলিনা খান গত বুধবার আদালতে এই রিট আবেদন করেন।

আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন এলিনা খান। তার সঙ্গে ছিলেন রেজিনা মাহমুদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপিুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

গত ৯ মার্চ মা ও মেয়েকে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। আজমির শরিফ যেতে কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে দিল্লিগামী ট্রেনে ওই নারী ধর্ষিত ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে বাংলাদেশ কিংবা ভারতের পুলিশের কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোথায় কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়নি।

নার্গিস আক্তার (৩৪) খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোড এলাকার সাহাবুদ্দিনের মেয়ে।

অন্ধ মা মনিমালা সাংবাদিকদের বলেন, রাত ৩টার দিকে ট্রেন দিল্লিতে পৌঁছে গেছে বলে কয়েকজন যুবক তাদের নামতে বলে। তিনজন নেমে গেলেও একটি ব্যাগ ভুলে রেখে আসায় তা আনতে আবার ট্রেনে ওঠেন নার্গিস। তখন কয়েকজন যুবক তার মুখ চেপে ধরে ট্রেনের গার্ডের রুমে নিয়ে যায়।

“আমি অন্ধ মানুষ, চোখে দেখি না। কেবল মেয়ের গোঙানো ও চিৎকার শুনতে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। পরে স্টেশন এলাকায় জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, ওটা কানপুর স্টেশন।”

এরপর কয়েকদিন কানপুর স্টেশনেই কাঁদতে কাঁদতে বিভিন্নজনের কাছে মেয়ের খবর চাইতে থাকেন অন্ধ মনিমালা, সঙ্গে ছিল তার ৯ বছর বয়সী নাতনী।

পাসপোর্টগুলো নার্গিসের কাছে থাকায় তাদের দুজনের কাছে বৈধতার কোনো কাগজপত্র ছিল না। ১৬ মার্চ তাদের দুজনকে (নানি-নাতনি) পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধ পথে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়ে যায় কয়েকজন ব্যক্তি।

এরপর ১৯ মার্চ সোনাডাঙ্গা পুলিশ বাড়িতে এসে জানায়, নার্গিস ভারতে মারা গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লাশের সঙ্গে থাকা তিনটি পাসপোর্টে ঠিকানা পেয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছিল।

মনিমালা তখন সোনাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে রাহেলা জানান। ক্ষতিপূরণ ও লাশ ফেরতের জন্য মনিমালা স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ দেশের নয়টি দপ্তরে আবেদনও করেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আসলাম খান বলেন, ১৯ মার্চ ঘটনাটি জানার পর খুলনা পুলিশের বিশেষ শাখা বিষয়টি বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনকে জানায়। ওই সময় নার্গিসের লাশ আগ্রা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছিল।

পরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে লাশটি ফেরত আনা হয় বলে জানান তিনি।

নার্গিস কীভাবে মারা গেলেন, কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি আসলাম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে চলন্ত বাস ও ট্রেনে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়নও তোলে।