ভারত থেকে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা/ কুষ্টিয়া ও ভেড়ামারা প্রতিনিধি
অবশেষে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে। আজ শনিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করবে। ইতিমধ্যে এই বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ পেতে শুরু করেছে। আগামী নভেম্বর মাসে পুরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশ আমদানি করবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দেশ থেকে সরকার বিদ্যুৎ আমদানি করছে। বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। তারই সর্বশেষ সংযোজন হলো ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি। দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন অনেক বাড়িয়েছে বর্তমান সরকার।
এ বিদ্যুৎ আমদানির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক
সঞ্চালন (গ্রিড) লাইন স্থাপনের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল উভয় দেশ। এ সঞ্চালন লাইনের সাহায্যে আগামীতে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে। ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পি কে সিনহা নেপাল ও ভুটান থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানিতে ভারতের কোনো আপত্তি নেই বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন। তার এ ঘোষণায় এদেশের বিশেষজ্ঞদের মনে আশাবাদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত থেকে যে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে তাকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক গ্রিড প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আজ শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিদ্যুৎ আমদানির উদ্বোধন করবেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এ বিদ্যুতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেকেরও কম দামে ভারতের বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এতে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি কমবে। এটাকে বিদ্যুৎ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছেন বাংলাদেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. ম. তামিম সমকালকে বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ভারত থেকে যে দামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে তা অনেক সাশ্রয়ী। এর ফলে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দায় থেকে বাংলাদেশ কিছুটা মুক্তি পাবে। তা ছাড়া দ্বিপক্ষকীয় চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির ফলে এ খাতে দুই দেশের মধ্যে একটা আস্থার জায়গা তৈরি হবে। যা আগামী নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পথকে প্রশস্ত করবে। এটি একটি বড় সাফল্য হিসেবে মনে করছেন তিনি।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম সমকালকে বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামীতে নেপাল ও ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হবে। তা ছাড়া ভারতের বিদ্যুৎ আসায় এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণও কমে আসবে।
ভারত থেকে প্রথম পর্যায়ে আসা ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে সাড়ে চার টাকা। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও যে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে; তার প্রতি ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৩৪ পয়সা পড়বে। আগামী ২৫ বছর ভারত থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।
ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।
কুষ্টিয়া ও ভেড়ামারা প্রতিনিধি জানান, প্রায় এক যুগ পর আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়া সফরে আসছেন। ২০০১ সালে সর্বশেষ কুষ্টিয়া সফরে আসেন তিনি। আজ সকাল ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী ভেড়ামারায় পেঁৗছবেন। প্রথমে উদ্বোধন করবেন ভারত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র। এরপর ভেড়ামারায় ৩৬০ মেগাওয়াট একটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করবেন। পরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ (৩৭ ইউনিট) শীর্ষক প্রকল্প, কুষ্টিয়া জেলা সার্ভার স্টেশন ভবন (চারতলা ভিতবিশিষ্ট তিনতলা ভবন), মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ভেড়ামারা থানা ভবন, কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করবেন।
এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প, মিরপুর থানা ভবন, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, কুমারখালী উপজেলায় ‘সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ’ স্মৃতি মিউজিয়াম, কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন, ভেড়ামারা উপজেলা মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, বিজেএম কলেজের একাডেমিক ভবন, মিরপুর উপজেলার সাগরখালী আইডিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, কুমারখালী উপজেলা কলেজের একাডেমিক ভবন, শিলাইদহ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলেজের একাডেমিক ভবন, দৌলতপুর উপজেলার নুরুজ্জামান ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, দৌলতপুর কলেজের একাডেমিক ভবন, দৌলতপুর উপজেলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।