রংপুরের জনসভায় খালেদা জিয়া

ভোট চাইতে নয়, রুখতে এসেছি

দলীয় সরকারের অধীন ‘পাতানো নির্বাচন’ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি ভোট চাইতে আসিনি। ভোট রুখতে এসেছি। একদলীয় পাতানো ভোট রুখতে হবে।’

গতকাল রোববার রংপুর জিলা স্কুলমাঠে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। দলীয় সরকারের অধীনে একদলীয় কোনো পাতানো নির্বাচনে ১৮-দলীয় জোট অংশ নেবে না। সেই নির্বাচন হতেও দেওয়া হবে না।’

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘২০০৭-এ নির্বাচনের সময় আপনি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মানেননি। অথচ সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান ছিলেন একজন নিরপেক্ষ মানুষ। তাই আগামী নির্বাচনে আপনাকে মানার তো প্রশ্নই আসে না। সে জন্য আপনাকে বিদায় নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের কর্মকাণ্ড দেখা হবে। এরপর রাজপথে আন্দোলন শুরু হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করতে ১৮-দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে জোটে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করা হবে। তার আগে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে।

সরকারের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন, নির্দলীয় সরকারের প্রধান কে হবেন, কেবল সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আর কোনো বিষয় নিয়ে নয়। তিনি বর্তমান সরকারের একদলীয় নির্বাচনের চেষ্টা সফল না করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব’ ও ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘তারপরও আপনাদের বলব সোজা হয়ে দাঁড়ান। আর তা না পারলে আপনাদের বিদায় নিতে হবে।’

রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় ১৮-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে বিরোধীদলীয় এই জোট দেশের সাতটি মহানগর ও একটি জেলায় জনসভা কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রথম জনসভাটি হয় ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদীতে। গতকাল রংপুরে দ্বিতীয় জনসভা হয়। আজ সোমবার বিকেলে হবে রাজশাহীতে।

১৭ বছর পর খালেদা জিয়া রংপুরে কোনো জনসভায় বক্তব্য দিলেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে বগুড়া থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়কজুড়ে ছিল তোরণ, ব্যানার ও পোস্টারের ছড়াছড়ি। দুপুরে রংপুর শহরে ঢোকার মুখে মডার্ন মোড় থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত আট কিলোমিটার পথ ঘোড়া, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী বিরোধীদলীয় নেত্রীকে স্বাগত জানান। সড়কের দুই পাশে ছিল নানা রঙের পতাকা। বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা গান গেয়ে নেত্রীকে স্বাগত জানান।

দুপুরের আগেই জনসভাস্থল ভরে যায়। বিকেল নাগাদ মানুষের জমায়েত রংপুর জিলা স্কুলের মাঠ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোড়, সার্কিট হাউস হয়ে সিটি করপোরেশন বাজার ও জজকোর্ট এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

বিকেল পৌনে পাঁচটায় খালেদা জিয়া বক্তব্য শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ আগে শুরু হয় বৃষ্টি। তা উপেক্ষা করে সমবেত নেতা-কর্মী-জনতা বক্তব্য শোনেন। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, এই বৃষ্টি রহমতের বৃষ্টি। কেননা রংপুরের মানুষ জেগেছে, তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। এ জন্য বৃষ্টি রহমত হয়ে তাদের ওপর পড়ছে।

৪০ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতায় গেলে রংপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও গ্যাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সীমান্তে ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়ার জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, রংপুর বিভাগের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। তিনি সার্কিট হাউসের সামনে সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতাকালে অভিযোগ করেন, সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে একদলীয় নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে।