মধ্য জানুয়ারিতে নির্বাচনের চিন্তা

সরকারের মেয়াদ শেষের সাত থেকে ১০ দিন আগে নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভার পরদিন গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় নেতা এবং আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সরকারের এ ভাবনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জনগণ সে ধরনের নির্বাচন প্রতিহত করবে।’
বিরোধী দল সংবিধান পরিবর্তনের যে দাবি তুলেছে সে ব্যাপারে কামরুল ইসলাম পরিষ্কার জানান, সংবিধান অক্ষুণ্ন রেখে সময়মতো নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়েই সরকার এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সংবিধানে কোনো পরিবর্তন, সংশোধন হবে না। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি। সেই প্রসঙ্গ তুলে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়াদ শেষের পাঁচ-সাত দিন বা সাত-দশ দিন আগে নির্বাচন হতে পারে…সেই টার্গেট নিয়েই আমাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা চলছে।’ নির্বাচনের মাস দেড়েক আগে তফসিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন করতে ৪৫ থেকে ৫০ দিনের বেশি লাগে না।
সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে হবে। সে অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সরকারকে নির্বাচন করতে হবে; যদিও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কবে হবে, ২৪ অক্টোবরের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী এ মাসের শেষ নাগাদ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন।
একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনের পথে…আমরা মানুষের কাছে ভোট চাইছি।’
আওয়ামী লীগের এই দুই নেতাই ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জন বা নির্বাচন প্রতিরোধের হুমকি নিয়ে তাঁরা ভাবছেন না। তাঁদের মতে, কোনো দল নির্বাচনে এলো না এলো সেটা বড় কথা নয়, নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণই বড় কথা।
বিএনপির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া : নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দুই নেতা যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনগণ সে ধরনের নির্বাচন প্রতিহত করবে।’ তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ঘোষণামতো ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি।
পাল্টা হুঁশিয়ারি : তবে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, বিরোধী দল কোনো সহিংসতার পথে গেলে সরকার কঠোর হবে।