এখন চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজ কিনে পানগাঁও টার্মিনাল চালু করছে

মন্ত্রী-সাংসদের জাহাজ-বাণিজ্য

মন্ত্রী, সাংসদ ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা কনটেইনারবাহী ৩২টি জাহাজের লাইসেন্স (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুই বছরেও জাহাজ নামাননি। কেউ কেউ গোপনে লাইসেন্স বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। আর সময়মতো জাহাজ না আসায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে।
জাহাজের অনুমতিপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদের স্ত্রী নূরান ফাতেমা। এই দুজন এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারের অনুমতিপত্রও নিয়েছিলেন। মহীউদ্দীন খান আলমগীর ব্যাংক (ফারমার্স ব্যাংক) ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ) অনুমোদনও পান। জাহাজের লাইসেন্স পাওয়ার তালিকায় আরও আছেন প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই ও বাগেরহাটের সাংসদ শেখ হেলালউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই সাবেক সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত কোটার মহিলা সাংসদ বেগম নাজমা আক্তারের স্বামী এবং চট্টগ্রামের সাংসদ শামসুল হকের ছেলে। শেখ হেলাল এর আগে মাছ ধরার ট্রলারের লাইসেন্সও পেয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য কনটেইনারবাহী এসব জাহাজের অনুমোদন দিয়েছিল সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। কিন্তু অনুমোদন নিয়ে কেউ জাহাজ তৈরি বা আমদানি করেননি। এখন টার্মিনাল চালু করার জন্য বাধ্য হয়েই তিনটি ব্যবহূত (রিকন্ডিশনড) জাহাজ কিনেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনটি জাহাজের দুটি এ মাসেই চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজ না আসায় দুই বছর ধরে পানগাঁও টার্মিনাল অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী বলে তাদের অনুমোদনও বাতিল করা সম্ভব হয়নি।
কনটেইনারবাহী জাহাজের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া বেশির ভাগ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জাহাজ পরিচালনায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই। নিয়ম ভেঙে কাউকে একাধিক জাহাজের লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর জোবায়ের আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা জাহাজের লাইসেন্স পেয়েছেন, এটা ঠিক। কিন্তু এতে কোনো অনিয়ম হয়নি। আসলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এত টাকা বিনিয়োগ করার আগে দেখতে চান, এই ব্যবসা কতটা লাভজনক।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার সড়ক বা রেলপথে ঢাকায় আনতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা। এতে খরচও বেশি। নৌপথে কনটেইনার এলে খরচ কম হবে—এমন ভাবনা থেকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও এলাকায় একটি কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ১৭৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে টার্মিনালে কনটেইনার পরিবহনের জন্য বেসরকারি জাহাজের অনুমতির জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। এতে ৮০টির বেশি প্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র জমা দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ৩২ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জাহাজের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়।
অভিযোগ আছে, লাইসেন্স নেওয়ার পর কেউ কেউ তা বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু অনুমোদনের শর্তানুসারে মালিকানা হস্তান্তরের বিধান না থাকায় তাঁরা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে প্রথম আলোর কাছে তাঁরা ভিন্নভাবে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, বড় ধরনের বিনিয়োগ তাঁরা করছেন কোম্পানির মাধ্যমে, এতে কোম্পানির সব পরিচালকেরই শেয়ার থাকতে পারে।
সূত্র জানায়, বাগেরহাটের সংরক্ষিত কোটার সাংসদ বেগম নাজমা আক্তার তাঁর স্বামী খাদেমুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল বিজনেসের নামে লাইসেন্স নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নাজমা আক্তার বলেন, ‘আমি না, আমার সাহেব ও তাঁর পার্টনার এই লাইসেন্স পেয়েছেন। আমাদের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ওর পার্টনারদের অভিজ্ঞতা তো আছে।’
শেখ হাসিনার সাবেক বিশেষ সহকারী আওলাদ হোসেন একটি জাহাজের লাইসেন্স পান। তাঁর প্রতিষ্ঠান আর অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল থেকে তিনি নিজেই আবেদন করেছিলেন। জানতে চাইলে আওলাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো ভাই ব্যবসা বুঝি না। কী করব। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী জহুর আহমেদ চৌধুরীর ছেলের কাছে সব বিক্রি করে দিলাম।’
হাছান মাহমুদের স্ত্রী নূরান ফাতেমার প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসের নামে দেওয়া হয়েছে একটি জাহাজের অনুমোদন। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের জাহাজ নির্মাণের পর্যায়ে আছে। চট্টগ্রামের এফএমসি ডকইয়ার্ডে এর নির্মাণকাজ চলছে।’
সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ না কিনলেও এর অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিরা দেশের জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাগজে-কলমে চুক্তি করে রেখেছেন। সরকারি নিয়ম রক্ষায় তাঁরা এই পথ ধরেছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
অনুমোদন নিয়ে জাহাজ আনেননি কেন, জানতে চাইলে সাবেক সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি। টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছি। ব্যাংক টাকা দিচ্ছে না। আগে দেখি কী হয়, তারপর বিনিয়োগ করব।’
কানাডা আওয়ামী লীগের নেতা সারোয়ার হোসেন অনুমোদন নিয়েছেন ব্যানকান শিপিং নামে। অথচ জাহাজ ব্যবসায় তাঁর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ অনুমোদন তিনি চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে জানা গেছে। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
জাতীয় পার্টির নেতা ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম তাঁর ভাই ফয়সল মুরাদ ইব্রাহিমের প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টাল লজিস্টিকসের নামে একটি জাহাজের অনুমোদন নিয়েছেন। আবার মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমের শ্বশুর সানাউল্লাহ চৌধুরী নিয়েছেন আরেকটি জাহাজের অনুমোদন।
মোর্শেদ মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনুমোদন বিক্রি করিনি। নিজেরাই জাহাজ বানাব বলে চিন্তা করছি। এতে এক বছর লেগে যাবে।’
বন্দর সূত্র জানায়, নিয়ম ভেঙে একই প্রতিষ্ঠানকে তিনটি করে জাহাজের অনুমোদনও দেওয়া হয়। এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান হলো ফরিদপুরের করিম গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা শেখ হেলালের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। জুট মিল ও সড়ক পরিবহন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করিম গ্রুপের পরিচালক ওয়াহিদ মিয়া ও তাঁর ভাই জাহিদ মিয়াকে একটি এবং তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুল করিম লিমিটেডকে একটি জাহাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া কাগজপত্রে দেখা গেছে, আবদুল করিম লিমিটেডের তিনটি আবেদনেই নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সুপারিশ করেছেন। করিম গ্রুপের ঢাকার পান্থপথের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে গ্রুপের পরিচালক জাহিদ মিয়া বলেন, জাহাজের ব্যবসা তাঁর ভাই ওয়াহিদ মিয়া দেখাশোনা করেন। কী হয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, করিম গ্রুপ লাইসেন্স বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করছে বলে শোনা যাচ্ছে।
করিম গ্রুপের মতো আরেকটি প্রতিষ্ঠান হলো ওয়েস্টার্ন মেরিন। ওয়েস্টার্ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাখাওয়াত হোসাইন আবেদন করেছেন ব্লু ওয়াটার শিপিং নামের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে। এই প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামের সাংসদ শামছুল হকের ছেলেও আছেন। আবার শাখাওয়াত হোসাইন তাঁর স্ত্রী শারমিন সাদেক চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডিংয়ের নামে নিয়েছেন আরেকটি জাহাজের অনুমতি।
জানতে চাইলে শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘সাংসদের ছেলে আমার একটি প্রতিষ্ঠানের পার্টনার। আমরা যেসব জাহাজের অনুমোদন পেয়েছিলাম, তা বানানোর মতো অর্থ এখনো জোগাড় হয়নি। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠান অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামী বছরের জুনে এসব জাহাজ প্রস্তুত হতে পারে।’
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, অনুমোদন দেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই জাহাজের বিস্তারিত তথ্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছিল। সেই তথ্য অনুমোদিত হলে চার মাসের মধ্যে ঋণপত্র খুলতে বলা হয়। কিন্তু কেউ জাহাজ তৈরি বা আমদানির ব্যাপারে উদ্যোগই নেননি। এরপর কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। গত সেপ্টেম্বরে অনুমোদন পাওয়া ২২টি প্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা জাহাজ আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাদের বলা হয়েছে, এক মাসের মধ্যে জাহাজের নকশা দেখাতে হবে। কিন্তু অন্য ১০টি প্রতিষ্ঠান কিছুই বলেনি।
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজের কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে নতুন করে সাতটি জাহাজ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিসিকে তিনটি, চট্টগ্রাম বন্দরকে দুটি এবং নৌবাহিনীকে দুটি জাহাজ আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নৌবাহিনীর জাহাজ আসতে দুই বছর লাগবে। বিআইডব্লিউটিসি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতিতে চীন থেকে তিনটি জাহাজ কিনেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এতে খরচ পড়েছে ৪৯ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে জাহাজগুলো সরবরাহ করছে ঢাকার দিলকুশার মেসার্স বেঙ্গল লয়েড লিমিটেড। দেশে আনার পর জাহাজগুলোর নামকরণ করা হবে ইলিশা, সাঙ্গু ও শাহ বদর।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন এম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, পানগাঁও টার্মিনালে সব ধরনের স্থাপনা রয়েছে। কিন্তু যাঁরা অনুমোদন পেয়েছিলেন, তাঁদের জাহাজ না নামানোর কারণে এত দিন কাজ শুরু করা যায়নি। এখন বন্দরের নিজস্ব জাহাজ দিয়েই কার্যক্রম চালু করা হবে। বেসরকারি অপারেটর দিয়ে নয়, চট্টগ্রাম বন্দর নিজেই পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনা করবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজনীতিবিদেরা তাঁদের এ পদটিকে মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। সবকিছু থেকে তাঁরা সুবিধা নিতে চান। তাঁদের কারণে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়, কিন্তু ক্ষমতাসীন বলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

প্রস্তুত পানগাঁও টার্মিনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিটি) এখন দিনরাত কাজ চলছে। চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। দেয়ালে লাগানো হচ্ছে নতুন রং। বন্দরে কর্মরত লোকজন জানালেন, ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন।
সোমবার সকালে বন্দরের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে টার্মিনাল ভবন। নিচের তলায় সোনালী ব্যাংকের শাখা। ওপরে কাস্টম হাউস। পরীক্ষামূলকভাবে এসব চালু হয়ে গেছে আরও কিছুদিন আগে। বন্দরের খোলা চত্বরে পড়ে আছে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য ক্রেন, রিচ স্ট্যাকার, ট্রাক্টর টেইলার্স, ফর্ক লিফটসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি।
প্রকল্প সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার পানগাঁওয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় টার্মিনালটি স্থাপনের সমীক্ষা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএর ৩২ একর জায়গা নিয়ে ২০০৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর নানা জটিলতায় নির্মাণকাজ পিছিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে বন্দরটি প্রস্তুত হয়।
ঢাকা-মাওয়া সড়কের ইকুরিয়া থেকে পানগাঁও বন্দর পর্যন্ত ২৮ মিটার প্রশস্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়। আইসিটিতে বছরে এক লাখ ১৬ হাজার কনটেইনার ওঠানামা করার ব্যবস্থা আছে। বন্দরের ভেতরে যে জায়গা আছে, তাতে দুই হাজার ৪০০টি বোঝাই কনটেইনার ও এক হাজার ৩০০টি খালি কনটেইনার রাখা যাবে।
বন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও বন্দরের দূরত্ব ২৮৩ কিলোমিটার বা ১৫৭ নটিক্যাল মাইল। এ পথে কনটেইনার নিয়ে জাহাজ আসতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টা। পানগাঁও টার্মিনাল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে ফতুল্লা এলাকাটিকে নোঙর (অ্যাংকরেজ এরিয়া) এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখান থেকে অনুমতি সাপেক্ষে পানগাঁও আইসিটির ১৮০ মিটার দীর্ঘ জেটিতে একসঙ্গে দুটি কনটেইনার জাহাজ টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, নদীপথে একটি কনটেইনারের পরিবহন খরচ গড়ে নয় হাজার ৪৪০ টাকা, ওঠানো-নামানোর খরচ তিন হাজার ৯৬০ টাকা। মোট খরচ হবে ১৩ হাজার ৪০০ টাকা। অথচ সড়কপথে গড়ে ২৮ হাজার ৯৬০ টাকা এবং রেলপথে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) ক্যাপ্টেন এম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, উদ্বোধনের পরপরই এ বন্দর পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপও কমে যাবে।