মহিউদ্দিনের পরামর্শে চলেন মন্জুর!

বিপুল ভোটে নির্বাচিত চট্টগ্রামের মেয়র এম মন্জুর আলম তিন বছরেও বেশির ভাগ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। মেয়রের এই ব্যর্থতা নিয়ে গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করেন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা।অভিযোগ আছে, সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁর মেয়ের জামাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরীর চাকরি এবং করপোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে নিজের সদস্যপদ রক্ষার জন্য বর্তমান মেয়রের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলছেন না। তাঁর পরামর্শেই মেয়র চলেন।এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগের নেতা এম এ সালাম বলেন, ‘নগরকে পরিচ্ছন্ন এবং রাস্তাগুলোর উন্নয়ন দেখতে চান নগরবাসী। জলাবদ্ধতাও একটি সমস্যা। নগরবাসী এই তিনটির উন্নত সেবা করপোরেশন থেকে আশা করেন। মেয়র এ ক্ষেত্রে সফল নন। সাবেক মেয়রের উচিত বর্তমান মেয়রের এই ব্যর্থতা তুলে ধরা।’মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকার বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনও একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরাও শুনেছি, বর্তমান মেয়র কেবল মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে করপোরেশন পরিচালনা করছেন। নাগরিকদের কাছে তাঁকে কি জবাবদিহি করতে হবে না?’ করপোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যসেবার মানের অবনতি ঘটেছে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে সেলিম আকতার দায় এড়াতে পারেন না। কিন্তু আমাদের মেয়র এসব নিয়ে কথা বলতে চান না। তিনি সব দিক রক্ষা করে চলেন।’

মেয়র মন্জুর আলম সাবেক মেয়রের কাছ থেকে সিটি করপোরেশন পরিচালনায় পরামর্শ নেন বলে স্বীকার করেন। এটি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে সব বিষয়ে মেয়র পরামর্শ নেন না বলে দাবি করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে মেয়র ম্জুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমি মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে পরামর্শ নেব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই আমি তাঁর পরামর্শ নিচ্ছি। এটা তো অপরাধের কিছু নয়। আমরা দুই মেরুর দুজন একসঙ্গে বসে কাজ করছি। আমাদের এই ঐক্য সারা দেশের রাজনীতিবিদদের মডেল হিসেবে দেখা উচিত।’

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আরও বলেন, ‘সাবেক মেয়রের মেয়ের জামাই চাকরিবিধি মেনে কাজ করছেন। আমার মেয়াদে ডা. সেলিম আকতারের তো কোনো অনিয়ম দেখিনি। আর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মহিউদ্দিন চৌধুরী ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।’

জানতে চাইলে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি করছেন। তিনি তো চাকরির বিধি লঙ্ঘন করছেন না। তাঁর চাকরির সঙ্গে মেয়রের বিরোধিতা করার কী সম্পর্ক রয়েছে?’

মহিউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেছি, যে কারণে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। কারও দয়ায় আমি এই সদস্যপদ লাভ করিনি।’ তবে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ছাড়া অন্য কোনো বিষয় নিয়ে মেয়রের সঙ্গে তাঁর কথা হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

নগরে সেবার মান কমে যাওয়া সম্পর্কে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সেবার মান বেড়েছে, নাকি কমেছে, সেটা মূল্যায়ন করবেন নগরবাসী। আমি রাজনীতির মাঠে অনেক কথা বলি। কিন্তু ব্যক্তিকে আক্রমণ করে কিছু বলি না। তাই মেয়রের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা শোভন হবে না।’