মাথাপিছু আয় ১৩১৪ ডলার

dollar
বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ১৯০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩১৪ ডলার হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই-মার্চ)তথ্য বিশ্লেষণ করে মাথাপিছু আয়ের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এই হিসাবে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

সভায় নতুন অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৯৭ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, “এখন আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে বছরে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৯০ ডলার।

তিনি জানান, মাথাপিছু আয়ের এই হিসাবে (নমিনাল) বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীতে ৫৮তম।

“আর ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) আমাদের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ১৯০ ডলার। ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে আমাদের অর্থনীতি পৃথিবীর ৩৬তম।”

টানা ছয় বছর ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি

প্রতি বছরই মে মাসে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয়সহ অর্থনীতির প্রধান কয়েকটি সূচকের প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস।

গত বছরের মে মাসে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জিডিপির প্রাথমিক যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার যে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ গত অর্থবছর ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “এ বছর আমাদের ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বছরের একটা বড় অংশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও না হলে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারতাম। ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও কম নয়।”

তিনি জানান, চলতি বাজার মূল্যে বর্তমানে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।

টানা ছয় বছর ৬ শতাংশের উপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ‘পৃথিবীর মাত্র চারটি দেশ’ করতে পেরেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এই প্রবৃদ্ধির জন্য আমি আমাদের কৃষক, শ্রমিক, ড্রাইভারসহ সকল পেশাজীবী মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। হরতাল অবরোধেও বেসরকারি খাত তাদের ব্যয়সায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যে কৃষি খাতের অবদান ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাত থেকে ২৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সেবা খাত থেকে ৫৬ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্বলন করা হয়েছে।

গত অর্থবছরে এ তিনটি খাতের অবদান ছিল যথাক্রমে কৃষিতে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ, শিল্পে ২৭ দশমিক ৭১ এবং সেবা খাতে ৫৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

“এ বছর এ তিনটি খাতে প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে কৃষিতে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, শিল্পে ৯ দশমিক ৬ এবং সেবায় ৫ মদশমিক ৮৩ শতাংশ।”

২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ তিন খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে কৃষিতে ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ, শিল্পে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেবায় ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বিনিয়োগ ও জিডিপি অনুপাত

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক হিসাবে দেশে বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত দাঁড়িয়েছে  ২৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গত বছর এ অনুপাত ২৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল।