মানবপাচার বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে: আইজিপি

police

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, সমুদ্রপথে মানবপাচার বন্ধে দেশব্যাপী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। তিনি বলেছেন, সমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। নিখোঁজ থাকছে আরও বেশি মানুষ। কিন্তু এ পর্যন্ত কত জন নিখোঁজ রয়েছেন এ তথ্য বা তালিকা পুলিশের নেই। সম্প্রতি নিখোঁজদের তালিকা তৈরি করতে পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘কক্সবাজারে মাদক ও মানব পাচারবিরোধী সচেতন সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে শহীদুল হক এসব কথা বলেন।
শহীদুল হক বলেন, মিয়ানমারে তৈরি ইয়াবা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আবার মিয়ানমারের নাগরিকেরা নাফ নদী অতিক্রম করে কক্সবাজার অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে নৌকায় মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে পাচারের শিকার হচ্ছে দেশের মানুষও। যেকোনো মূল্যে এসব তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। নইলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের পাশাপাশি দেশের জনশক্তি রপ্তানিতে ধস নেমে আসতে পারে।
আইজিপি আরও বলেন, মাদক ও মানব পাচারে জড়িত ব্যক্তিরা যতই শক্তিশালী হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদক ও মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধে পুলিশের কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম, হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, কোস্টগার্ডের চট্টগ্রাম পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন শহিদুল ইসলাম, কক্সবাজার বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান, র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি রণজিত দাশ, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ছত্রধর ত্রিপুরা।