আবাসন ব্যবসায়ী জাফরুল হত্যা

মামলা তুলে নিতে হুমকি আতঙ্কে পরিবার

আবাসন ব্যবসায়ী জাফরুল হক ওরফে মোক্তার হোসেন মিনা হত্যার ঘটনায় আসামিদের ধরতে ঢাকা থেকে মাদারীপুরে গিয়েছিল পুলিশ। আসামিরা জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে যেতে পারেন—এ খবর পেয়ে হাইকোর্টেও ছিল তাঁদের নজরদারি। কিন্তু পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাইকোর্ট থেকে আগাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত হয়েছেন আসামিরা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত জাফরুলের পরিবার।
জাফরুলের ছেলে রাজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হত্যা মামলার আগেও ওই আসামিদের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের শিবচর থানায় তিনটি মামলা করেছিলেন তাঁরা। কোনো মামলাতেই তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আগের মতো এ মামলায়ও জামিন পেয়ে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রূপনগর থানা এলাকার ছয় নম্বর সেকশনের ট ব্লকে বাসায় ঢুকে হোমটেক ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জাফরুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অহিদুল হক চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন: হারুন শিকদার, আবদুর রব শিকদার, সাইদুল শিকদার ও নীরু শিকদার। হারুন ও আবদুর রব সম্পর্কে আপন ভাই। অপর দুজন তাঁদের চাচাতো ভাই।
নিহতের পরিবার ও শিবচরের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আসামি আবদুর রব মাদারীপুরের শিবচর থানার ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। গত ইউনিয়ন নির্বাচনে তাঁর প্রতিপক্ষকে সমর্থন জানিয়েছিলেন নিহত জাফরুল। নির্বাচনে রব পরাজিত হন। এতে জাফরুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন রব। গত বছর এপ্রিলে গ্রামের বাড়ি গেলে রবের পক্ষের সাইদুলসহ কয়েকজন জাফরুলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু জাফরুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং এ ঘটনায় সাইদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় চাঁদাবাজি মামলা করা হয়। এরপর মামলা ওঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি চলতে থাকে। কিন্তু মামলা না তোলায় ওই বছরের ২৫ মে জাফরুল গ্রামের বাড়িতে গেলে সেখানে সাইদুলেরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
এ ঘটনায় আবারও ওই আসামিদের বিরুদ্ধে একই থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা হয়। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার মামলার সাক্ষী বাদল মিনা নামের একজনের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। এ ঘটনায়ও তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় আরেকটি মামলা হয়। তিনটি মামলাই মাদারীপুর আদালতে বিচারাধীন। রাজীব বলেন, হত্যার কিছুদিন আগে মাদারীপুরে আদালতে চাঁদাবাজির মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তাঁর বাবা জাফরুল। ওই দিন সাইদুল তাঁকে আদালত চত্বরে হত্যার হুমকি দেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর হত্যাচেষ্টার মামলায় সাক্ষী দিতে মাদারীপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর বাবার। কিন্তু ২৮ সেপ্টেম্বরই তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা গুলি করার ঘটনায় যে কয়েকজনের নাম বলে গেছেন, তাঁদের নামেই ৫মামলা করা হয়েছে। অথচ গ্রেপ্তারের আগেই তাঁরা জামিন পেয়ে গেছেন। এখন বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা ওঠানোর জন্য তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। বাবার মতো অবস্থা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন।
রাজীব বলেন, ঘটনার পর রূপনগর থানার পুলিশ আসামিদের ধরতে মাদারীপুরে গিয়েছিল। জামিন নেওয়ার চেষ্টার কথা শুনে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে পুলিশ হাইকোর্ট এলাকায় কড়া নজরদারি রেখেছিলেন। কিন্তু কোন সময়ে মামলার চারজন আসামি জামিন নিয়েছেন, তা বুঝতে পারছেন না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। ঘটনার পর তাঁরা কেউই এলাকায় ছিলেন না। মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ ছিল। মামলার তদন্ত যথাযথভাবেই চলবে।’
জাফরুলের পরিবারকে হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আবদুর রবের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।