মিতব্যয়ী রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রের খরচ বাঁচাতে সিঙ্গাপুরে দৈনিক সাত হাজার ডলারের হোটেল স্যুইটের বদলে কম দামি হোটেলে ৬০০ ডলারের স্যুইটে থেকেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। হোটেলের খাবারের দাম বেশি, তাই বাইরে থেকে কম দামে আনিয়েছেন বাঙালি খাবার। বিদেশে খরচ বাঁচাতে সামরিক সচিব, সচিব ও ব্যক্তিগত সচিবকে চড়িয়েছেন একই গাড়িতে। গত আগস্টে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয়বার সিঙ্গাপুর সফরকালে মিতব্যয়িতার এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন আবদুল হামিদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, রাষ্ট্রপতির এই মিতব্যয়ের ফলটাও হয়েছে দারুণ। আগেরবার ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত ছয় দিনে তাঁর সিঙ্গাপুর সফরে রাষ্ট্রের খরচ হয়েছিল এক লাখ ৪৪ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার। গত ২৪ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আট দিনের সফরে ব্যয় হয়েছে এক লাখ চার হাজার ডলার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে জানান, রাষ্ট্রপতি খরচ ও সফরসঙ্গী কমাতে চান। সিঙ্গাপুরের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি এবার (আগস্ট সফর) সেই হোটেলে থাকেননি। তিনি বেছে নেন গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের খরচের ১০ ভাগের এক ভাগেরও কম খরচের ইয়র্ক হোটেলকে। এর ফলে আগের সফরে গ্র্যান্ড হায়াতে রাষ্ট্রপতির হোটেল স্যুইটের ভাড়া যত ছিল, এবার ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের (নিরাপত্তাকর্মীসহ) সবার হোটেল ভাড়া মিলেও তত হয়নি।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিদেশে গাড়ি ব্যবহার কমানোর ব্যাপারেও রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। সাধারণত রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব ও ব্যক্তিগত সচিব বিদেশে আলাদা গাড়ি পান। কিন্তু খরচ কমাতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এবার তাঁরা তিনজনই এক গাড়িতে চড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি সাধারণের মতো জীবনযাপন পছন্দ করেন। অনেক সময় তিনি প্রটোকলের বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ থাকতে চান না। সিঙ্গাপুরে চশমা ঠিক করতে দেওয়ার পর অন্য একটি দোকানে যাওয়ার জন্য হেঁটেই রাস্তা পার হয়েছেন তিনি। এতে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।
সূত্রে জানা যায়, ইয়র্ক হোটেলের পাশেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল। গত আগস্ট মাসে ওই হাসপাতালেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় রাষ্ট্রপতির। ইয়র্ক হোটেল থেকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল দেখা যায়। হোটেলের কক্ষ থেকে যাতে হাসপাতালটি রাষ্ট্রপতির নজরে না পড়ে সে জন্য নিরাপত্তারক্ষীরা স্যুইটের জানালাগুলো পর্দা দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে রেখেছিলেন। কারণ তাঁদের এই দুশ্চিন্তা কাজ করছিল যে সাধারণ জীবনযাপনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি কক্ষের জানালা দিয়ে হাসপাতাল দেখে হেঁটেই সেখানে চলে যেতে চাইতে পারেন। তাতে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সূত্রে আরো জানা যায়, সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি সফরে গেলে সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বাসভবনে সাধারণত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের লোকজনও আসেন সেখানে। অনুষ্ঠান ও আতিথেয়তার জন্য খরচ হয় রাষ্ট্রের। এবার রাষ্ট্রপতি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে জানিয়ে দেন, কোনো অনুষ্ঠান নয়। শুধু চা খেতে যাবেন তিনি। বাস্তবে হলোও তাই।