মুক্তির পর গলাচিপায় সাংসদ রনি, আওয়ামী লীগের ‘না’

সাংবাদিক পেটানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা তিনটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গতকাল সোমবার পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সরকারদলীয় সাংসদ গোলাম মাওলা রনি প্রথম গলাচিপা উপজেলা শহরে আসেন। কিন্তু এখানে পৌঁছলে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করে তাঁকে ‘না’ জানান। তবে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।
রনি এলাকায় আসবেন, এ খবর জানতে পেরে বিকেল চারটা থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা হাতে সমবেত হন এবং পতাকা উঁচু করে তাঁর আগমনকে ‘না’ জানান। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, সহসভাপতি সন্তোষ কুমার দে, পৌর মেয়র ওহাব খলিফা, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে শহরে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়।
মিছিল শেষে গলাচিপা পৌর মঞ্চে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে হারুন অর রশিদ ও গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, সাংসদ রনি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী। তিনি প্রধানমন্ত্রী, চিফ হুইপ ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এলাকায় তিনি নিজস্ব বাহিনী গঠন করে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের লাঞ্ছিত করেছেন। টিআর-কাবিখা এবং অতিদরিদ্রদের
কর্মসংস্থান কর্মসূচির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
বিকেল চারটার দিকে গলাচিপা ফেরিঘাটে পৌঁছলে সাংসদ রনিকে তাঁর অনুসারীরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। সাড়ে চারটায় তাঁরা গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংসদের অনুসারী রেজাউল করিম হাওলাদার। সমাবেশে রনি বলেন, ‘সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমি সব সময় সত্য কথা বলেছি। সত্য কথা বলার কারণে আমাকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমি আমার জীবনকে গলাচিপা-দশমিনাবাসীর জন্য উৎসর্গ করলাম।’
গত ২০ জুলাই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের দুই সাংবাদিককে পেটানোর ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা একটি মামলায় ২৪ জুলাই রনি গ্রেপ্তার হন। পরদিন আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠান। এরপর গত ১৩ আগস্ট গলাচিপা থানায় দায়ের করা দুটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত তিনটি মামলায়ই তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।