ফরিদপুরে স্কুলছাত্রী জাকিয়া হত্যা

মুক্তি পেয়েই মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন আসামি

ফরিদপুরের বিদ্যালয়ছাত্রী জাকিয়া আক্তার চম্পাকে ধর্ষণের পর গাছে ঝুলিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শামীম মণ্ডল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এর পর থেকেই তিনি মামলা প্রত্যাহার করে নিতে জাকিয়ার পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার পরিবার।
শামীম মণ্ডলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ গত ২২ জুলাই তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন।
জাকিয়া (১৪) পরদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী ছিল। তার মা ফাতেমা বেগম ২০০৪ সালে এবং বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া ২০১০ সালে মারা যান।
মামলার বাদী জাকিয়ার বড় ভাই হাসিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই শামীম তাঁর সহযোগীদের নিয়ে তাঁদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ দিচ্ছেন। বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁদের পরিবারের আরেক মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেন শামীম।
হাসিবুল আরও অভিযোগ করেন, শামীম মণ্ডল আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যান। আদালত প্রাঙ্গণেও তাঁরা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হুমকি এবং তাঁদের কটাক্ষ করে কথা বলেন।
এসব বিষয়ে জানতে শামীমের মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশী সালাম মাতুব্বরের স্ত্রী পারভীন বেগম জাকিয়াকে জরুরি কাজের কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেন। ওই দিন জাকিয়ার এক চাচাতো বোনের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি মেহগনি বাগানে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় জাকিয়ার মৃতদেহ পাওয়া যায়। ওই দিনই হাসিবুল বাদী হয়ে শামীম মণ্ডল (২২), সালাম মাতুব্বর ও তাঁর স্ত্রী পারভীন, বাবু, আবুল খাঁ, হাশেম খাঁসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের শেখ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে এজাহারভুক্ত আসামি শামীম মণ্ডল ও বাবু হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাহিদ হাসান, আকাশ মণ্ডল ও মৌসুমীর নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হাসিবুল বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা চার আসামিকে পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘটনার সময় তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে তিনি নারাজি আবেদন করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১১ সেপ্টেম্বর বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত।