মুজাহিদের সঙ্গে তিন আইনজীবীর সাক্ষাৎ

moja

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তাঁর তিন আইনজীবী। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে তাঁরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এই তিন আইনজীবী হলেন শিশির মনির, নাজিবুর রহমান ও এহসান সিদ্দিক।
সাক্ষাৎ শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, মুজাহিদের রায়ের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিলের শুনানি চলছে। আপিল বিভাগ আগামীকাল ২৪ মে আপিলের যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করেছেন তাঁরা। মামলার যুক্তিতর্ক দৃঢ়ভাবে আদালতে উত্থাপনের জন্য মুজাহিদ তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিন আইনজীবী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মুজাহিদের সঙ্গে কথা বলেন।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়, প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে এক, ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। তিন নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এই দুটি অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ ফেরত দিয়ে সুবিন্যস্ত করে পুনর্দাখিলের আদেশ দিলে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি তা পুনর্দাখিল করা হয়।