যুদ্ধাপরাধের বিচারে সমর্থন চাই

জাতিসংঘে ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বাসস/ইউএনবি
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের স্বার্থেই এই বিচার সম্পন্ন করা এবং এতে আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান ৬৮তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সদর দফতরে স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ২টা) প্রধানমন্ত্রী এ ভাষণ দেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো শেখ হাসিনা এবারও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। 
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ মানদণ্ড রক্ষা করেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের স্বার্থে এ বিচার প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিচার সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতি (বাংলাদেশ) কলঙ্কমুক্ত হবে। দেশে নিশ্চিত হবে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি।
এই প্রথম যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের দেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন ৩০ লক্ষাধিক মানুষ, আর ইজ্জত হারিয়েছিলেন প্রায় আড়াই লাখ নারী। তখন থেকে জাতির আকুল আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল এই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার। সে অনুযায়ী আমাদের সরকার তাদের বিচার করতে ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় দুটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বরাবরই বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি মদদ পেয়ে আসছে। তাদের আস্কারায় 
গড়ে উঠেছিল নানা জঙ্গি সংগঠন। বোমা ও গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে মানুষ হত্যা, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যদের হত্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল জঙ্গিদের পথচলা। ওই চক্র তাকেও বারবার হত্যা করার চেষ্টা করেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট বোন শেখ রেহানা ও তিনি দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে গেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তার ওপর গ্রেনেড হামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, এসব হামলা থেকে সন্ত্রাস নির্মূলে তার মনোভাব আরও দৃঢ় হয়েছে। তার সরকার সন্ত্রাস ও মানি লন্ডারিংবিরোধী আইন আরও কঠোর করেছে। সন্ত্রাসবাদী ও চরমপন্থিদের আদর্শিকভাবে মোকাবেলার জন্য দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অনুদান বাড়াতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু নিষ্পত্তির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তার সরকার কাজ করছে। যোগাযোগ (কানেকটিভিটি) বাড়ানোর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ নীতি অনুসরণে তার সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে কোটা ও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিকদের অবাধ যাতায়াতের সুবিধা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়ন জাতিসংঘের প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য একটি কঠিন কাজ। ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের সকলের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। কোনো ব্যক্তি বা জাতি পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও উদার ১৬ কোটি মানুষ অগ্রভাগে থেকে এসব প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেবে।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যা-পরবর্তী ২১ বছর দেশের ইতিহাস পেছন দিকে ফেরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ অসাম্প্রদায়িক শক্তির দৃঢ় প্রতিরোধের কারণে তারা ব্যর্থ হয়। 
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদে একটি চক্র তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি ১৩টি গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত এবং পাঁচ শতাধিক আহত হন। এ হামলায় অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দলের সিনিয়র ও নিবেদিত নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ অনেক নিরপরাধ মানুষ ও অসাম্প্রদায়িক লোক নেতা নিহত হন। এসব ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জঙ্গিবাদ ও অর্থ পাচারবিরোধী আইন প্রণয়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ৩৯ বছর আগে ১৯৭৪ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু সেদিন এ মঞ্চে দাঁড়িয়েই নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থাকবে, যার মাধ্যমে বিশ্ব ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও যুদ্ধমুক্ত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সেই লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখতে পেরে তার কন্যা হিসেবে আমি গর্বিত।’ তিনি বলেন, নিত্যনতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এসব আবিষ্কার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে অবদানের পাশাপাশি দ্বন্দ্বও সৃষ্টি করছে, যা অনেক সময় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের অরক্ষিত, বঞ্চিত ও পশ্চাৎপদ জাতিগোষ্ঠী। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘২০১৫-পরবর্তী এজেন্ডা : প্রস্তুতি গ্রহণ’ ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০০ সালে ‘সহস্রাব্দ ঘোষণা’ গ্রহণের সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার উপস্থিতি, ২০১০ সালে এমডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনায় উপস্থিতি এবং এবার এমডিজি থেকে ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় উত্তরণেও তার অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত লক্ষ্য এবং তা অর্জনে প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণসহ বাংলাদেশের ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা জাতিসংঘে উপস্থাপনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমডিজির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ এমডিজি-১, ২, ৩, ৪, ৫ ও এমডিজি-৬ পূরণ করেছে বা কোনো কোনো লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছে এবং দেশে দারিদ্র্যহার ১৯৯১ সালের ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের গত সাড়ে ৪ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ এবং ‘দক্ষিণ এশিয়ার মানবাহক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, গ্গ্নোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড এবং এফএও ফুড অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ লাভ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনে আমার উত্থাপিত ও সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন মডেল’-এ বর্ণিত নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে এ গৌরব অর্জন সম্ভব হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তার ভিশনের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রযুক্তিকে তার সরকার ‘স্টেট অব আর্ট’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত ডিজিটাল সুবিধা-সমৃদ্ধ ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে গ্রামের জনগণ দুই শতাধিক সেবা নিতে পারছে। 
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আইন ও নীতি প্রণয়ন করেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৪ হাজারের বেশি নারী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছেন। বর্তমান সংসদে ৭০ জন নারী সংসদ সদস্য আছেন। ৫ জন নারী মন্ত্রী এবং একজন নারী সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভবত বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা নারী। সরকারি চাকরিতে নারীর জন্য ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ তাদের বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন এবং সশস্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চতর পদে পেঁৗছাতে সহায়তা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অটিজমসহ মানসিক প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বিশ্ব সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে উত্থাপিত বাংলাদেশের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অটিস্টিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জের প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেক অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার অভিঘাত মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সমুদ্রের পানির স্তর ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পানিতে তলিয়ে যাবে।
তিনি জলবায়ুজনিত অভিবাসীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি আইনি কাঠামো তৈরির জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে দেওয়া তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি ‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল’-এ পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকারমূলক কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান।
মহান ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করায় ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী একইভাবে জাতিসংঘের প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান।
তিনি জাতিসংঘের বাংলা ওয়েবসাইট ও একটি রেডিও অনুষ্ঠান চালু এবং ইউএনডিপি এশিয়া রিপোর্ট বাংলায় প্রকাশ করায় জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জাতির পিতার অমোঘ বাণী ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়’ _ এর আলোকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করা এবং বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে শান্তিকে স্থায়ী রূপ দিতে কাজ করছে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক সৈন্য প্রেরণকারী এবং নিরস্ত্রীকরণ ও বিস্তাররোধ এজেন্ডায় সুদৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এ অঙ্গীকার প্রমাণিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এলডিসিগুলোর পণ্য অন্যান্য দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রেটন উডস্ ইনস্টিটিউশনস ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মতপ্রকাশে সমান অধিকার এবং জিএটিএস অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অবাধ যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।