রাবির ভয়ংকর শিবির নেতা ইয়াহহিয়া গ্রেপ্তার

হত্যা, রগ কাটাসহ ৪২ মামলার আসামি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি সাইফুদ্দিন ইয়াহহিয়াকে (২৮) সাত সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে নগরীর মালোপাড়া এলাকায় কনটেস্ট কোচিং সেন্টার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি পিস্তল, আটটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ১৩টি ককটেল, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, দুটি ক্যামেরা, একটি ব্যানার ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে গতকাল দুপুরে ইয়াহহিয়াসহ গ্রেপ্তারকৃতদের রাজশাহী র‌্যাব-৫-এর রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
র‌্যাব জানায়, আটক শিবির নেতা সাইফুদ্দিন ইয়াহহিয়ার নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত ৪২টি মামলা রয়েছে। তিনি বেশকিছু দিন ধরে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার চর মীর কামারী গ্রামে। বাবার নাম আবদুল হামিদ।
আটককৃত অন্য নেতা-কর্মীরা হলেন, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার কুড়ানিপাড়ার আইয়ুব আলীর ছেলে আরিফুর রহমান (২৫), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের আবদুস সবুরের ছেলে কবির হোসেন ওরফে সুমন (২৫), যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মহিরণ গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান (২০), রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার মুশরইল এলাকার সিরাজুলের ছেলে আবু ছায়েম (২৩), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মীর কামারী গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৯), আবদুস সাত্তারের ছেলে আবদুল কাদের বাপ্পী (১৯) ও একই উপজেলার আরামবাড়িয়া গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে মিনহাজুল ইসলাম (২২)। এরা সবাই ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মী বলে র‌্যাবকে জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী র‌্যাব রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পের একটি অপারেশন দল গতকাল ভোর ৪টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া থানার সাহেব বাজার মালোপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। ওই এলাকায় অবস্থিত কনটেস্ট কোচিং সেন্টার থেকে সাইফুদ্দিন ইয়াহহিয়াসহ আট নেতা-কর্মীকে আটক এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী র‌্যাবের অধিনায়ক আনোয়ার লতিব খান সাংবাদিকদের জানান, শিবির নেতা ইয়াহহিয়ার বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ড, ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদ আল তুহিনের রগ কাটা, অপর ছাত্রলীগ নেতা আখেরুজ্জামান তাকিমের রগ কাটাসহ গত বছরের ৬ নভেম্বর পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিয়ে দুই পুলিশকে মারধর, চলতি বছরের ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল নগরীতে পুলিশের ওপর হামলাসহ অন্তত ৪২টি মামলা রয়েছে। ইয়াহহিয়া সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তিনি এসব ঘটনার পরিকল্পনাকারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া কিছু দিন ধরে রাবি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে যেসব অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল বা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেসবের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, ‘নাশকতামূলক কোনো ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যেই ইয়াহহিয়া নগরীর ওই কোচিং সেন্টারে দলবল নিয়ে অবস্থান করছিল। আমরা তাকে অনেক দিন থেকেই খুঁজছিলাম। কিন্তু সে আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপন করেছিল।’
এদিকে ইয়াহহিয়াকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শিবিরকর্মীরা রাবি সংলগ্ন কাজলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় তারা অন্তত পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এদিকে গতকাল বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মহসিন আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ঘুমন্ত শিবির নেতা-কর্মীদের আটক করা চরম হতাশাজনক। প্রকৃতপক্ষে, যে স্থান থেকে ইয়াহহিয়াসহ নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে সেখান কোনো কিছু উদ্ধার করতে পারেনি র‌্যাব-৫।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ইয়াহহিয়াসহ আটককৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে আজ শুক্রবার রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবারের মধ্যে তাঁদের মুক্তি দেওয়া না হলে আগামী রবিবার ওই চার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হবে।