সরকারি প্রেসনোট

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অপপ্রচার চলছে

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি এক প্রেসনোটে বলা হয়েছে। সরকার বলছে, এটি স্থাপিত হলে সুন্দরবনের পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

প্রেসনোটে বলা হয়, বর্তমানে গ্যাসের স্বল্পতা ও গ্যাসের মজুত ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির বিষয়টি বিবেচনা করতে হচ্ছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে স্বল্প খরচে উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

প্রেসনোটে বলা হয়, প্রকল্পটি সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে (১৪ কিলোমিটার) এবং ইউনেসকোর স্বীকৃত ন্যাশনাল হেরিটেজ সাইট থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ও উন্নতমানের আমদানিনির্ভর কয়লা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে কার্বন, সালফার, ফ্লাই অ্যাশ ও অন্যান্য বায়ুদূষণের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে থাকবে। এটা পরিবেশের ওপর কোনোরূপ বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) প্রতিবেদনের অনুমোদনের লক্ষ্যে যে কয়টি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেসব পরামর্শ অনুসরণ করে রামপাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে ওই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল উন্নতি হবে। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। দেশের প্রথম ‘স্টেট-অব-দ্য-আর্ট’ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়নের জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয় সরকারি প্রেসনোটে।