রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চেক সংকট

bb

চেক সংকটে ভুগছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। প্রায় দেড় মাস ধরে দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) চেক ছাপানোর যন্ত্র বিকল থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চেক প্রদান বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো অন্য ছাপাখানা থেকে চেক ছাপাচ্ছে। সমস্যা সমাধানে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে এসপিসিবিএলকে দ্রুত যন্ত্র মেরামত বা নতুন যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা  বলেন, ‘এসপিসিবিএলে চেক ছাপানোর যন্ত্র একটিই। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে প্রচলিত যন্ত্রটি দু-তিনদিনের মধ্যে মেরামত হয়ে যাবে। পাশাপাশি নতুন যন্ত্র কেনারও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যন্ত্রটি মেরামত না হলে অন্য কোনো ছাপাখানা থেকে চেক ছাপানো শুরু করব।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও কৃষি ব্যাংকের ম্যাগনেটিভ ইংক ক্যারেক্টার রিকগনিশন (এমআইসিআর) চেক ছাপানো হয় এসপিসিবিএল থেকে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব চেকও ছাড়া হয়। এছাড়া আরো কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের চেকও ছাপানো হয় এসপিসিবিএলে। এপ্রিলের শুরুতে এসপিসিবিএলের চেক ছাপানো যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়ে। এর পর থেকেই চেকের ক্রয়াদেশ নেয়া বন্ধ করে দেয় সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এসপিসিবিএলের কাছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের প্রায় তিন হাজার চেক বই ছাপানোর আদেশ রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি চেক বইয়ে ৫০টি পাতা থাকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাপানো বন্ধ থাকায় নতুন করে গ্রাহকদের চেক বই দেয়া হচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজনে বেসরকারি ছাপাখানা থেকে জরুরি চেক ছাপানো হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের আগের পুরনো চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তবে অগ্রণী ব্যাংক এরই মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেক ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দরপত্রে অংশ নিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারস। জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘অন্য ছাপাখানা থেকে চেক ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এজন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পরবর্তী পর্ষদ সভায়ই এটি চূড়ান্ত হবে।’

এসপিসিবিএলের বাইরে বর্তমানে ছয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমআইসিআর চেক ছাপানোর কাজ করছে। এর মধ্যে জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারসে ২২টি ব্যাংক, টেকনোমিডিয়ায় ২১টি ব্যাংক ও সিকিউরা বাংলাদেশে কয়েকটি ব্যাংক চেক ছাপায়।

সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক মজিবুর রহমান বলেন, চেক বই শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্থ উত্তোলন করতে পারছি না। ব্যাংকের কাছে আবেদনের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও চেক বই পাইনি। ফলে অর্থ স্থানান্তর করে অন্য ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে হচ্ছে।

এসপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, মেশিনটি দেড় মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ায় চেক ছাপানো যাচ্ছে না। বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এসেছেন, কাজ চলছে।

তবে কবে নাগাদ যন্ত্রটি উৎপাদনে যাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। নতুন আরেকটি যন্ত্র কেনার জন্য ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে চেক জালিয়াতি বন্ধে এমআইসিআর চেক চালু হয়। এ চেক যন্ত্রে পাঠযোগ্য, যাতে বিশেষ কোড দেয়া থাকে এবং সবার জন্য পৃথকভাবে প্রস্তুত হয়। বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের মাধ্যমে এটি সহজেই নিষ্পত্তিযোগ্য। ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে ক্লিয়ারিং হাউজে সনাতনী চেক গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে সব ব্যাংক বাধ্য হয়ে এমআইসিআর চেক চালু করে।