ঝিনাইদহে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

শান্তি ও উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দিন

মাহমুদ হাসান টিপু, ঝিনাইদহ
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সেবা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল করে। অন্যদিকে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে লাশ উপহার দেয়। দুর্নীতি-অনিয়ম ও সন্ত্রাস করে; জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদকে লালনপালন করে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বের কাছে জাতিকে ছোট করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পেঁৗছে দিতে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তাই সমাজে শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে আবারও নৌকায় ভোট দিন।
গতকাল মঙ্গলবার ঝিনাইদহ শহরের সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঝিনাইদহের ১২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন ও চারটি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য প্রেরণা ‘৭১ উদ্বোধন করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাই এমপির
সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাহারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপি, সাবেক এমপি শেখ হেলাল উদ্দীন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সফিকুল ইসলাম অপু এমপি, আবদুল মান্নান এমপি, শফিকুল আজম খান চঞ্চল এমপি, নূরজাহান বেগম এমপি, ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, উপজেলা চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, তৈয়ব আলী জোয়ারদার প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দেশের যেখানে যাই, সেখানেই বিএনপির হত্যার বিভীষিকা। তারা মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেয় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়ন করে না, লুটপাট ও দুর্নীতি হয়। তারা মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায় এবং খুন করে।
ঝিনাইদহের বিশিষ্ট চিকিৎসক এস কে মুখার্জিসহ নিহত বহু আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা দক্ষিণাঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দূর করেছিলাম। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপির মদদে আবারও রক্তের হোলি খেলা শুরু হয়।
শেখ হাসিনা তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, আমরা উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি, যে কারণে ঝিনাইদহ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা। তিনি বলেন, আমরা নদীভাঙনে গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসন করেছি। বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি করেছি। ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি ও এসএসসি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। সব ইউনিয়নে ইন্টারনেট সেবা পেঁৗছে দিয়েছি। মানুষ ঘরে বসে তথ্যসেবা পাচ্ছে।
১৯ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা মানুষ খুন করে, কোরআন শরীফ পোড়ায়, মসজিদে মানুষ খুন করে, ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, যারা গ্রেনেড ছুড়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল_ তারা কীভাবে ইসলামের হেফাজত করবেন? তিনি আরও বলেন, গত ৫ মে বিএনপি ক্যাডার ও হেফাজতের লোকেরা পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। তারা ধর্মের কথা বলে আবার কোরআন শরীফ পোড়ায়। ইসলামে কোনো জবরদস্তি নেই। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে, এটাই ইসলামের শিক্ষা। তিনি বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা দেশ জঙ্গিবাদমুক্ত করেছি। নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধিত করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে আমরা বড় জেলাগুলোতে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি তার সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বহমান রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
১২ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর
বিকেলে ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভার আগে ওই স্থানে বসে ১২টি প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন ও চারটির ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ওরাল স্যালাইন ফ্যাক্টরি, শিশু একাডেমী কমপ্লেক্স, সরকারি কেসি কলেজের নবনির্মিত চারতলা ভবন, ঝিনাইদহ পৌরসভার সম্প্রসারিত ভবন ও পোস্ট অফিস ভবন উদ্বোধন হয়। এ ছাড়া ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শৈলকূপা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল কলেজ ও ঝিনাইদহ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। জনসভার আগে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোল চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘প্রেরণা ৭১’ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।