শিলংয়ে সালাহ উদ্দিনের জন্য আইনজীবী

sala
নিখোঁজের দুই মাস পর ভারতের শিলংয়ে গ্রেপ্তার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় লড়বেন রাজ্য হাই কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসপি মহন্ত।

শিলংয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই বিএনপি নেতার স্ত্রী সাবেক সাংসদ  হাসিনা আহমেদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইনজীবী মহন্তর সঙ্গে দেখা করে মামলার বিষয়ে দীর্ঘ সময় পরামর্শ করেন।

বুধবার সকালে আবারও আইনজীবীর বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে আসেন হাসিনা।

তার সঙ্গে থাকা এক আত্মীয় জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য সালাহ উদ্দিনকে সিঙ্গাপুরে নিতে তারা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করছেন।

অবশ্য অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থাকার কথা জানিয়ে ভারতীয় পুলিশ বলেছে, সালাহ উদ্দিনের শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

দুই মাস আগে ঢাকায় ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর গত ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবের সন্ধান মেলে। আচরণ অসংলগ্ন মনে হওয়ায় বাংলাদেশের সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করে।

৫৪ বছর বয়সী সালাহ উদ্দিনের দাবি, অচেনা এক দল লোক তাকে তুলে নিয়েছিল। এরপর থেকে আর কিছুই তিনি মনে করতে পারছেন না।

হাসপাতালে পুলিশ তাকে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করলেও এখনো আদালতে তোলেনি। সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ হাসপাতাল থেকে সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করলে বাংলাদেশের এই নেতাকে ভারতের কারাগারে যেতে হবে। আর আদালতে হাজির করার পর যদি সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর আবেদন করে, আদালত তা বিবেচনা করতে পারে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে নাশকতার মামলার আসামি সালাহ উদ্দিনকে ফেরাতে সরকার ‘ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়’ রয়েছে।

হাসিনা আহমেদ এর আগে কয়েকবার হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করলেও এখন তিনি আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন।

তিনি বলছেন, এর আগে সিঙ্গাপুরেই সালাহ উদ্দিনের হৃৎযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। বরাবরই তিনি সেখানে চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। সেই চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়েই হাসিনা শিলংয়ে এসেছেন।

হাসিনার সঙ্গে তার ভগ্নিপতি মাহবুব কবির ও এক আত্মীয় এবং বিএনপি নেতা আবদুল লতিফ জনি শিলংয়ে অবস্থান করছেন।