শেষ সময়ে আরও রেডিওর অনুমতি!

ক্ষমতার শেষ সময়ে আবারও বেসরকারি এফএম ও কমিউনিটি রেডিওর লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে এর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো রেডিও চালুর অনুমতি দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করেনি তথ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমান সরকারের সময়ে এর আগে আটটি বেসরকারি এফএম রেডিও চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। এগুলোর প্রতিটিই মন্ত্রী-সাংসদদের সুপারিশে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে দেশে ১২টি এফএম এবং ১৬টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন আছে।

জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যমকে প্রসারিত ও শক্তিশালী করতে এবং জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নতুন রেডিও চালুর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি কমিটি রয়েছে, ওই কমিটিতে আলোচনার পরই শ্রোতা বিবেচনায় নিয়ে বলা যাবে ঠিক কতটি রেডিওর অনুমোদন দেওয়া হবে।

এবারও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কমিটি যাদের যোগ্য মনে করবে, তারাই অনুমোদন পাবে।

অনুমোদিত রেডিওগুলোর মধ্যে ১০টি রেডিও এখন চলছে। এর মধ্যে রেডিও আমার, রেডিও টু-ডে, এবিসি রেডিও ও রেডিও ফুর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত বিএনপি সরকারের সময়ে। বর্তমান সরকারের আমলে অনুমোদন দেওয়া ছয়টি রেডিও হলো ঢাকা এফএম, রেডিও ভূমি, পিপলস রেডিও, রেডিও স্বাধীন, এশিয়ান রেডিও, সিটি এফএম বর্তমানে সম্প্রচারে রয়েছে। টিউন এফএম ও ৭১ নামের দুটি রেডিওর অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো সম্প্রচারে আসেনি।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন এবং সম্প্রচারে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। সারা দেশ থেকে পাঁচ শতাধিক আবেদনপত্র জমা পড়ে। সে সময় তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, প্রতি জেলায় একটি করে কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দেওয়া হবে। পরে মোট ১৬টি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন ও সম্প্রচারের অনুমোদন দেয় সরকার।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রচারে আসা অনেক রেডিও প্রতিষ্ঠানের মালিক নিয়মনীতি অনুসরণ করছেন না। গত বছর সম্প্রচারে গিয়েছে এমন একটি রেডিওর শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জমা হয়েছে। নীতিমালায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের শেয়ার হস্তান্তর করেছে বলে সূত্র জানায়। নীতিমালা অনুসরণ করে অধিকাংশ রেডিওর মালিক সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। নিয়মানুযায়ী এবিসি রেডিও নিয়মিত সরকারি তহবিলে আয়ের ২ শতাংশ অর্থসহ ভ্যাট-ট্যাক্স জমা দিচ্ছে।

রেডিও-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রেডিওর বাণিজ্যিক বাজার খুব ছোট। সেটি বিবেচনা করেই সরকারের এবার রেডিওর অনুমোদন দেওয়া উচিত।