সংকট সমাধানে দুই দলকে একসঙ্গে বসতে হবে

সফররত ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলের অভিমত

বিশেষ প্রতিনিধি

আমরা অশান্তির পথেই যাচ্ছি। কোনো পক্ষই ছাড় দেবে না :ড. শাহ্দীন মালিক

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে হয়তো সমঝোতা হতে পারে : প্রফেসর ইমতিয়াজ

সফররত যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের সদস্যরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার উপর জোর দিয়েছেন।

ব্রিটিশ আইন প্রণেতারা মনে করেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে উভয়পক্ষকে একত্রে বসতে হবে। তা না হলে রাজনৈতিক সংকট আর অস্থিতিশীলতার দায়ভার রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপরই বর্তাবে।

তারা বলেন, বিদেশি কোন আইন প্রণেতা বা বন্ধুর কিছু করণীয় নেই। বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে সহযোগিতা করতে পারি, কিন্তু কোন ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য রুশনারা আলী ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শাবানা মাহমুদ গতকাল রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন।

যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের ছয় সদস্য এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ সফর করছেন। দুই ব্রিটিশ এমপি বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সফররত অপর চারজন হলেন সংসদীয় গ্রুপের প্রধান কনজারভেটিব পার্টির এ্যান মেইন এমপি, লেবার পার্টির দুই এমপি জনাথন রিনল্ডস ও সাইমন ডানজুক এবং কনজারভেটিব পার্টির এমপি নিক ডি বইস।

সাংবাদিক সম্মেলনে রুশনারা আলী ও শাবানা মাহমুদ বলেন, আমরা বাংলাদেশকে সফল, শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দেশ হিসাবে দেখতে চাই। এখানকার গণতন্ত্র হতে হবে সচল ও স্থিতিশীল। তাহলে দেশটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

তারা বলেন, রাজপথে সংঘাত বা অস্থিতিশীলতার খবর ব্রিটেনে বসে যখন টিভিতে দেখি তখন বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। নির্বাচন নিয়ে যে মতবিরোধ আছে তা সমঝোতার মাধ্যমে নিরসন করতে হবে। সব দলকে এক টেবিলে বসতে হবে।

ব্রিটিশ এমপিরা আরো বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরেকটি নতুন চ্যালেঞ্জ। তারা বলেন, সমঝোতায় বসে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথ খুঁজে পেলে এবং এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখলে নতুন চ্যালেঞ্জ উত্তরণ সম্ভব হবে। এটি করতে হবে বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনীতিবিদদের।

সংকট আরো গভীর হবে :ড. শাহদীন মালিক

বাংলাদেশের সমস্যা নিজেদেরই সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে, বিদেশিরা এসে সমাধান করে দেবে না, নিজেরা সমাধান করতে না পারলে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেটির দায়ভারও এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে- সফররত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলীর এই বক্তব্য সম্পর্কে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্্দীন মালিক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এখন একটা বিষয় পরিষ্কার যে আমরা অশান্তির পথেই যাচ্ছি। ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি দুই দলের জন্য এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে এখানে আর কেউ ছাড় দেবে বলে মনে হচ্ছে না। সংকট আরও গভীর হবে। এখন সহিংসতার মাত্রা কোন পর্যায়ে যায়, হানাহানি কতটুকু হয়-সেটিই দেখার বিষয়।

এক প্রশ্নের জবাবে জ্যেষ্ঠ এই আইনজ্ঞ বলেন, আলোচনা বা সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে, আমাদের ৪০ বছরের ইতিহাসে এমনটি নেই। এখনও একবার বা দু’বার সংলাপে বসলেও যে সংকট দূর হয়ে যাবে, এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। আমরা ওই পথেই (অশান্তির পথ) যাচ্ছি। এটা ঠেকানোরও কোনো উপায় নেই। মোট কথা রুশনারা আলী, জাতিসংঘের মহাসচিব কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে যাই বলুন না কেন, আমরা আশার কোনো বাণী দেখছি না।

এখনও সময় আছে :অধ্যাপক ইমতিয়াজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, এখনও সময় আছে। সমঝোতা হতেই হবে। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে কয়েক ঘণ্টায় এর সমাধান সম্ভব। সরকার ও বিরোধী দল যদি ২৪ জানুয়ারির আগে সমঝোতায় যেতে না পারে তাহলে ১/১১ জাতীয় বা অন্য কিছুর মাধ্যমেও একসময় সমাধান আসবে হয়তো। কারণ একটা পর্যায়ে রাজনীতিকরা যখন দেখবেন যে পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং ক্ষমতাটা তাদের হাতেই রাখা দরকার তখনই হয়তো সংকটের সমাধান মিলতে পারে।