সংকেত বাতিতে স্থবির ঢাকা!

bat
সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বেরিয়েই যানজটে নাকাল হতে হয়েছে রাজধানীবাসীকে।

ঢাকার পুলিশ বলছে, সনাতন পদ্ধতির বদলে পরীক্ষামূলকভাবে ‘সময় নিয়ন্ত্রিত সংকেত বাতির’ মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই এ বিপত্তি।

সকালে যানজটে পড়ে উত্তরা থেকে দুই ঘণ্টায় মহাখালী ফ্লাইওভারে পৌছান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান আলী।

যানজটে পড়া এক পুলিশ কর্তকর্তা বলেন, “উত্তরা থেকে বের হয়ে ক্যান্টনমেন্টের স্টাফ রোড দিয়ে ঢুকে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে বের হয়েছি। পুলিশের গাড়ি বলে সময় একটু কমই লাগে। তারপরও আজ হেড কোয়ার্টারে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা লেগেছে।”

ফার্মগেইট, শাহবাগ, পান্থপথ, মহাখালী, ধানমণ্ডি, মালিবাগ, রামপুরা, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কও দিনের প্রথম ভাগে যানজটে প্রায় অচল হয়ে থাকে।

যানজটের কারণে হোটেল সোনারগাঁও থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কমওয়েলথ পার্লামেন্টারি সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে অতিথিদের দেরি হওয়ায় অনুষ্ঠান শুরু হয় আধা ঘণ্টা পরে।

সিপিএ চেয়ারপার্সন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এজন্য অনুষ্ঠানে দুঃখও প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “এটা ঢাকার প্রতিদিনের চিত্র নয়। ট্রাফিক বিভাগের পরীক্ষামূলক সংকেত ব্যবস্থার কারণে সাময়িক এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।”

যানজটের কারণ খুঁজতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়, জটিলতার মূলে রয়েছে সংকেত ব্যবস্থা। নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের এই শহর আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা সামলাতে না পারায় বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের সিগন্যাল বাতিটি ভেঙে পড়ে আছে অনেক দিন ধরে, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশই ভরসা। ছবিটি বুধবার তোলা। ছবি: নয়ন কুমার

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-কমিশনার খান মো. রেদওয়ান বলেন, “সকাল থেকে সিগন্যাল বাতির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ঢাকা শহর স্থবির হয়ে যায়। এ কারণে কমিশনার সাহেবের নির্দেশ এটা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।”

দুপুরে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে সংকেত বাতির বদলে আগের মতোই ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে বাঁশি আর হাত নেড়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার রাজধানীর কাকলী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১২টি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ‘টাইম কাউন্টার সিগন্যাল’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। মহানগর পুলিশের সহায়তার সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা এ কাঠামো গড়ে তুলেছেন বলে উপ-কমিশনার রেদওয়ান জানান।

এর আগেও বেশ কয়েকবার এ পদ্ধতিটি চালুর চেষ্টা হলেও ট্রাফিক পুলিশের অসহযোগিতার কারণে তাতে সাফল্য পাওয়া যায়নি বলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঢাকার ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার কুদ্দুস আমিন বলেন, “আধুনিক বিশ্বে রাস্তায় পুলিশ থাকে না। লাল বাতি জ্বলে- গাড়ি বন্ধ হয়, সবুজ বাতি জ্বলে- গাড়ি চলে। আমরা এখানে এটা চালু করতে চাই।”

তবে এই সিগন্যালের কারণেই ‘অতি মাত্রায়’ যানজট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আগে ঘোষণা ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিন চারদিন আগে থেকে পত্রিকায় এসেছে । তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা ছিল না। এটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। তারাই করে।”

যানজট নিরসনে ২০০১-০২ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর ৭০টি মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়।

২০০৯ সালের নভেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় এই সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা শিথিল হয়ে যায়। আবার শুরু হয় হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ।

পুলিশের দাবি, এসব সিগন্যাল বাতি অল্প দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরনো পদ্ধতিতে ফিরতে তারা বাধ্য হয়েছে। তবে এর পেছনে ডিসিসি ও পুলিশের দ্বন্দ্বই প্রধান কারণ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কারও কারও অভিযোগ।

এরপর ২০১০-১১ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আবারও ঢাকার ৬৪টি মোড়ে সোলার প্যানেল ও টাইমার কাউন্ট-ডাউন বসানো হয়।