সংবিধানের ভেতরে ছাড় দিতে রাজি আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি
আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনের প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে সংবিধানের ভেতর থেকে ছাড় দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, সংসদের মেয়াদের ৯০ দিন আগে না পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে এখনও মতৈক্যে পেঁৗছতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সরকারি দলের নেতারা সংবিধানের ভেতরে থেকেই নির্বাচন করার কথা বলেছেন। গতকাল বুধবার রাতে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ইন্দিরা রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত সরকারের নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে এ কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও ড. মসিউর রহমান, অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাউসার ও আইন সচিব (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক) মোহাম্মদ শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৩০ আগস্ট আইনমন্ত্রীর ইন্দিরা রোডের বাসায় সরকার ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
গতকাল রাতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সংবিধান ছাড়াও আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) নিয়ে আলোচনা হয়। আরপিও সংশোধনের বিষয়ে বৈঠকে একমত পোষণ করা হয়। বৈঠকে আরপিও সংশোধনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ খসড়ার ভিত্তিতে আরপিও চূড়ান্ত করবে আইন মন্ত্রণালয়। এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা খসড়া আরপিও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং পরবর্তী সংসদে উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, আরপিওতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। তবে গতকালের বৈঠকে, অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অপরাধে বর্তমানে প্রযোজ্য সাজার মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর
প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করা হলে বর্তমানের চাইতে জেল-জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়বে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন লাভজনক পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মতামত দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির চিঠির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বৈঠকের বিষয়ে স্বীকার করেননি। তবে, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, আইনমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক হয়েছে।