সংবিধান সংশোধন হচ্ছে না আইনমন্ত্রী

সমকাল প্রতিবেদক
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা গঠনের বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন। তিনি রোববার জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের ‘শান্তি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ক্ষুধা ও
দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম’ শীর্ষক একটি জাতীয় সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিন আগে বা পরে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে_ এই প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কবে হবে_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নীতিনির্ধারকরা বলবেন।
সংসদের শেষ অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার হবে। শফিক আহমেদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের কাজ হলো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। নীতিনির্ধারণের কাজ নির্বাচনকালীন সরকার করবে না।
শান্তি পরিষদের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য দফতরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ন্যাপনেত্রী আমেনা আহম্মেদ, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. সারোয়ার আলী প্রমুখ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যে কোনো কিছু উচ্চ আদালত বাতিল করতে পারেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তা বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।’ তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, দেশে-বিদেশে এ বিচার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এ বিচারকে ভবিষ্যতের মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে যাদের বিচার করা হচ্ছে, তাদের অর্থে কিছু বিদেশি সংস্থা লবিস্ট হিসেবে কাজ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, জাতিসংঘের মহসচিব নিজে এসে, দূতের মাধ্যমে এবং পরিশেষে টেলিফোন করে নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলছেন। তবে সংবিধানে কীভাবে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে বলা আছে। এরপর নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় থাকতে পারে না।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, একাত্তরে জাতি উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে পুনরায় যুদ্ধ করতে হবে।
রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে সিরিয়ায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করার আহ্বান জানান।