সংলাপের পথ এখনো খোলা রয়েছে : জয়

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘সংবিধানের আলোকেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়। সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে, সংলাপের পথ এখনো খোলা রয়েছে। যেকোনো সময় সংলাপ হতে পারে।’

দক্ষিণাঞ্চল সফরের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বিকেলে সজীব ওয়াজেদ জয় খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। খুলনায় এটি তাঁর প্রথম রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সফর। তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দলীয় কোন্দল ভুলতে হবে। আপনাদের সব ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে।’ তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা প্রতীককে জয়ী করানোর জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সজীব ওয়াজেদ জয় খুলনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এতে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতিত্ব করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ কামরুজ্জামান টুকু, প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, ননী গোপাল এমপি, ব্যবসায়ী নেতা শেখ জুয়েল, শেখ রেহানার ছেলে রেদোয়ান সিদ্দিকী ববি, সাবেক ছাত্রনেতা অসিত বরণ বিশ্বাস, ফারুক হাসান হিটলু প্রমুখ।

সভায় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বিএনপি সরকার আমলে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের উদ্ভব হয়েছিল। বর্তমান সময়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের অবস্থা আর নেই। দেশে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা জনগণের কাছে যান। তাদের কাছে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।’ আগামীতে সাধারণ মানুষ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এ জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, বিরোধী দল উন্নয়ন নয়- হরতাল, নৈরাজ্য ও বোমাবাজি পছন্দ করে। তাই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী হরতাল ডেকেছেন। তিনি নিজে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েও সেই সময়ের মধ্যে সংলাপে আসেননি। এর পরিবর্তে তিনি দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করেন। হরতালে হত্যা, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও করেন। তার পরও এখনো সংলাপের সুযোগ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সকালে সড়কপথে গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় পৌঁছান সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি খুলনা ও বাগেরহাটের সংযোগস্থল কুদির বটতলায় জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার জিয়ারতের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। বাগেরহাটের মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলার পথে পথে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর গাড়িবহরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। খুলনার প্রবেশপথে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেয়। খুলনায় এসেই সকাল ১১টায় নগরীর একটি হোটেলে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক একটি সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ওই সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তিনি তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

পরে খুলনা থেকে ঢাকা ফেরার উদ্দেশ্যে বিকেলে সফরসঙ্গীদের নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন জয়। যশোরের অভয়নগর উপজেলা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ ফুল ছিটিয়ে জয়কে শুভেচ্ছা জানায়। জয়ও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে সর্বসাধারণের অভিবাদনের জবাব দেন।

এরপর সন্ধ্যায় যশোর পৌঁছে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হন সজীব ওয়াজেদ জয়। এ সময় জয় বলেন, ‘আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সর্বদলীয় সরকারের অধীনে সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলী রেজা রাজু, সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, যশোরের বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ নেতারা। বক্তব্য শেষে নভো এয়ারের বিমানযোগে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা, যশোর ও বাগেরহাট প্রতিনিধি)